ইবিতে ছাত্রীকে পুঁতে ফেলার হুমকির অডিও ক্লিপ ফাঁস

0

 

ইমানুল সোহান, ইবি॥ গত ২৩ আগস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের সিট বরাদ্দের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বোরকা পরে সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। এসময় ওই হলের এক আবাসিক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সাক্ষাৎকারের সময় ওই ছাত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত মাহবুবা সিদ্দিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষিকা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়াও ওই দিনের ঘটনা তদন্তে হল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এছাড়াও ওই ছাত্রীকে হুমকি দেয়ার ২৮ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে, গত মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) খালেদা জিয়া হলের আবাসিকতা প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারী ছাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেয় হল কর্তৃপক্ষ। এ সময় বোরকা পরে সাক্ষাৎকারে অংশ নেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। এ কারণে ওই ছাত্রীকে ‘শিবির’ প্রমাণের চেষ্টা করেন সাক্ষাৎকারে থাকা এক শিক্ষিকা। পরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিষয়টি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে অবহিত করেন। এতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান শাখা ছাত্রলীগের কর্মী সাগরকে অবহিত করেন। পরে সাগর ওই ছাত্রীকে হেনস্তা না করতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। এতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেগে গিয়ে ওই ছাত্রীকে বলেন, ‘ আমি রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলাম। চিনো তুমি আমারে? আমি কত পাওয়ার চালাইছিলাম তুমি জানো? তোমার এলাকার মেয়র টিটু ভাইকে চিনো? ঐখানে তোমারে পুইত্তা ফালামু। আমার বাড়ি কোথায় জানোস? আমার শ্বশুর বাড়ি কোথায় জানস? আমার সাথে ফাইজলামি ? এলাকায়ও টিকতে পারবা না।’ এই কথোপকথনের ২৮ সেকন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট ওই ছাত্রী নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এছাড়াও ঘটনা তদন্তে খালেদা জিয়া হল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মাহবুবা সিদ্দিকা বলেন, ‘বিষয়টি কিছুটা সত্য, কিছুটা মিথ্যা। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীকে হুমকি দিতে পারে না, শাসন করতে পারে।’

এ বিষয়ে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন, হলের ৯০ শতাংশ ছাত্রী বোরকা পরে চলাফেরা করে। এ বিষয়ে আমাদের আপত্তি থাকতেই পারে না। তবে ওইদিন কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো হয়তো। তবে ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীন বলেন, ‘ অভিযোগপত্র পেয়েই আমরা ওই ছাত্রীকে নিয়ে বসেছিলাম। এতে হলটির প্রভোস্ট, অভিযুক্ত শিক্ষিকাসহ প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ওই ছাত্রী এখন নিরাপদ বলে জানিয়েছেন।’
এদিকে অডিও ফাঁস ও অভিযোগ পত্রের বিষয়ে প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ অডিও ফাঁসের বিষয়টি এখনো আমি শুনিনি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’