অভয়নগরের সুব্রত হত্যাকারীই আট মাস আগে খুন করে রকিবুলকে

0

স্টাফ রিপের্টার ॥ গত ১১ জানুয়ারি যশোরের অভয়নগরে মাছের ঘের ব্যবসায়ী সুব্রত মন্ডল হত্যাকারীই আট মাস আগে খুন করে খুলনার ফুলতলার বণিক সমিতির নেতা রকিবুল ইসলামকে। হত্যাকারীদের হোঁতা শিমুল ভূঁইয়া। শনিবার বিকালে রকিবুল হত্যায় জড়িত সোলায়মান মোল্লা জুয়েল নামে এক যুবককে আটকের পর এ তথ্য জানতে পেরেছে যশোরের গোয়েন্দা পুলিশ। আটক জুয়েল একটি বিদেশি পিস্তলের সন্ধান দিয়েছে পুলিশকে।
মূলত চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের কোন্দলে এ খুনোখুনি বলে জানিয়েছে আটক যুবক।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার সাভারের নিমেরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েলকে আটক করা হয়। পরে তারই স্বীকারোক্তিতে অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতিতে জিয়াউর রহমান জিয়া নামে এক সহযোগীর গোয়ালঘরের পাশ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাটি।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা যায়, আটক সোলায়মান মোল্লা জুয়েল খুলনার ফুলতলা উপজেলার জামিরা গ্রামের শাহজাহান মোল্লার ছেলে। রবিবার তাকে যশোরের আদালতে নেয়া হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
আটক অভিযানে অংশ নেয়া ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১২ মে রাতে অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন রকিবুল ইসলাম। এ সময় তিনি স্ত্রী বর্ষাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। হত্যার ঘটনায় নিহতের মা ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের মাহাবুব খন্দকারের স্ত্রী রহিমা বেগম অভয়নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি হিসেবে অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় এর আগে ছয় জনকে আটক করে পুলিশ।
মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন ডিবি পুলিশের এসআই শেখ আবু হাসান। তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, হত্যা মিশনে অংশ নেয়া নিউ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সোলায়মান মোল্লা জুয়েল ঢাকার সাভারের নিমেরটেক এলাকায় অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে তার ভাড়া বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
আটকের পর সোলায়মান মোল্লা জুয়েলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত রকিবুল ইসলাম ফুলতলার কথিত চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়ার প্রতিপক্ষ। এ কারণে চাঁদাবাজি ও একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে শিমুল ভূঁইয়া তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী অভয়নগরের পায়রা ইউনিয়নের দত্তগাতির সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলামের সহযোগিতায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় রকিবুল ইসলামকে। হত্যা মিশনে আটক জুয়েল ছাড়াও আরো ৩ জন রাজু, সাগর ও হৃদয় অংশ নিয়েছিলেন। গুলি চালিয়েছিলেন সাগর। এ ঘটনার পর হত্যা মিশনে অংশ নেয়া চরমপন্থিরা পালিয়ে নড়াইলে চলে যান। পরে সেখান থেকে তারা ঢাকার মোহাম্মদপুরে যান। মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে তাদের থাকার বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন শিমুল ভূঁইয়া। এরপর ওই ৪ জনের মধ্যে জুয়েল মোহাম্মদপুর থেকে সাভারের নিমেরটেক এলাকায় গিয়ে এক্স ডটকম নামে একটি টেক্সাটাইল মিলে চাকরি নেন। এ কারণে সেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। ওই ভাড়া বাড়ি থেকেই তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
সূত্র জানায়, আটক জুয়েলের স্বীকারোক্তিতে গত শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ৪টার দিকে অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতিতে কথিত চরমপন্থি জিয়াউর রহমান জিয়ার গোয়ালঘর সংলগ্ন একটি কক্ষে থাকা বালুর বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখা ১টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
এসআই মফিজুল ইসলাম আরো জানান, আটক জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, একই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়ার পরিকল্পনায় অভয়নগর উপজেলার দামুখালীতে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী সুব্রত মন্ডলকেও হত্যা করা হয়েছে। গত ১১ জানুয়ারিতে সকালে দামুখালীতে কথিত চরমপন্থিদের গুলিতে নিহত হন সুব্রত মন্ডল। তিনি এর আগে নিহত রকিবুল ইসলামের অত্যন্ত কাছের লোক ছিলেন।