কুমিল্লার স্কুলছাত্রী হত্যা মামলা: সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে কক্সবাজার থেকে হোটেল কর্মচারী গ্রেপ্তার

0
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কক্সবাজারের কলাতলী বাইপাস রোড এলাকা থেকে আটক হোটেল কর্মচারী রাজু চৌধুরী।। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে স্কুলছাত্রীর (১৫) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে এক হোটেল কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম রাজু চৌধুরী এবং তাঁর বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম মনির আহমদ। রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে যে লাশ উদ্ধারের আগে গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরের ভাড়া বাসা থেকে বের হন ওই স্কুলছাত্রী। প্রথমে সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায় এবং সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে পরবর্তীতে কক্সবাজারে গমন করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে গত ৬ অক্টোবর কক্সবাজারের একটি স্থানে রাজু চৌধুরীর সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রী দেখা করেছিল। এরই সূত্র ধরে স্কুলছাত্রীকে হত্যা মামলার তদন্তে রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে রাজুর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা পুলিশ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে কুমিল্লার লালমাইয়ের পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ধানখেত থেকে ওই স্কুলছাত্রী কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা। মামলার পর গত শুক্রবার পুলিশ সুমন মিয়া নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককেও গ্রেপ্তার করেছিল। আসামির দেখানো স্থান থেকেই পরবর্তীতে নিহত স্কুলছাত্রীর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার দিবাগত রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলসংলগ্ন তিশা বাস কাউন্টারের কাছাকাছি নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য অটোরিকশার খোঁজ করছিল ওই কিশোরী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুমনের অটোরিকশায় সে ওঠে এবং দর-কষাকষির পর ৩০০ টাকায় বাড়ি পৌঁছে দিতে রাজি হন চালক সুমন; কিন্তু নির্ধারিত বাড়ির পথে না গিয়ে তিনি উল্টো দিক দিয়ে নির্জন এলাকার দিকে অটোরিকশা চালিয়ে নিয়ে যান।

পদুয়ার বাজার থেকে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। পুলিশের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, চালক সুমন প্রথমে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিজরা বাজারের দিকে যান এবং পরবর্তীতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অতিক্রম করে লালমাইয়ের জগৎপুর এলাকায় পৌঁছান।

পুলিশের ভাষ্যমতে, এই সময় সুমন ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিশোরীটি চিৎকার শুরু করলে চালক তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন এবং পরবর্তীতে ধানখেতে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে হাজির করা হলে সুমন এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, রাজু চৌধুরীকে রাতে গ্রেপ্তারের পর নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় তাঁর কিংবা অন্য কারও কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

এছাড়া কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মূলত রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কুমিল্লা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর রাজুকে তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।