যশোর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী সুরের অবসর, ১৬ বছরের কর্মযাত্রার ইতি

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : একসময় স্যাতস্যাতে পুরোনো ভবনের ভেতর চলত নৈশ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষক সংকট আর নানা প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যেই সেখানে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টা চলত। সেই প্রতিষ্ঠানকে দিনে পরিচালিত বিদ্যালয়ে রূপ দেওয়া, নিম্ন মাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করা এবং ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানোর দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে একটি নাম—শ্রাবণী সুর।

দীর্ঘ ১৬ বছরের সেই পথচলা শেষে এবার বেজে উঠেছে বিদায় ঘণ্টা। চাকরির বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সে অবসরে গেলেন যশোর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী সুর। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেরও পরিচিত সংগঠক।

বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে তাঁর অবসর উপলক্ষে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক এসএম মাজেদুর রহমান। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা তাঁর দীর্ঘ কর্মযাত্রার স্মৃতিচারণ করেন।

২০১০ সালের ৫ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগ দেন শ্রাবণী সুর। তখন প্রতিষ্ঠানটি ‘যশোর নৈশ বিদ্যালয়’ নামে পরিচালিত হতো। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি পরিপত্রে নৈশ বিদ্যালয়ের জনবল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখাই হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ।

যশোর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী সুরের অবসর, ১৬ বছরের কর্মযাত্রার ইতিশ্রাবণী সুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সংসদ সদস্য মরহুম খালেদুর রহমান টিটো, পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ এবং শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি প্রায় দুই বছর শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। এর ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয়টি দিনে পরিচালনার অনুমোদন পায়। এরপর আরও প্রায় পাঁচ বছরের প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়।

শিক্ষক সংকটের মধ্যেও দিনে ও রাতে দুই শিফটে মোট ১৪টি ক্লাস চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কয়েকজন শিক্ষক প্রায় চার বছর বিনা পারিশ্রমিকেও পাঠদান করেছেন বলে তাঁর বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

এই সময় বিদ্যালয়ের বকেয়া ভাড়া, পৌরকর ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, ভবন সম্প্রসারণ, প্রাচীর ও গেট নির্মাণ, বেঞ্চ-আসবাবপত্র ও কম্পিউটার সংগ্রহসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়। পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মার্চপাস্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর ও গার্ল গাইড কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের ইউনিফর্ম দেওয়ার কার্যক্রমও চালু করা হয়। এসব কাজে দাতা, শুভানুধ্যায়ী, প্রশাসন, শিক্ষক

যশোর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী সুরের অবসর, ১৬ বছরের কর্মযাত্রার ইতি
বিদায় বেলায় বিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থীদের সাথে বিদায়ি প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী সুর – লোকসমাজ

-কর্মচারী ও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন শ্রাবণী সুর।

একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁর ভূমিকা এখন স্মৃতি। দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পথচলা থেমে যাবে না—বিদায় অনুষ্ঠানে এমন প্রত্যাশাই ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের।