হামের টিকা–সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ৫টি চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

0
ঢাকায় ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান টিকা-সংকট ও শিশুমৃত্যু নিয়ে কথা বলছেন সংস্থাটির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।। ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের টিকা–সংকট এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি আনুষ্ঠানিক চিঠি এবং ১০টি বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য টিকা–সংকটের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

বুধবার ঢাকায় ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি টিকা–সংকটের কারণ, সংকট নিরসনে ইউনিসেফের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়ানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় সময়মতো দেশে টিকা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগে, অথচ ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ে টিকা সংগ্রহ সম্ভব। তিনি বলেন, টিকার মজুত সব সময় নিশ্চিত রাখা অপরিহার্য।

হামের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, চলতি বছর দেশে হামে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই শিশু। এর মধ্যে ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যু এর আগে কখনো হয়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, গত আড়াই দশকে দেশে হামের সংক্রমণ কখনো ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। আগে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০০৫ সালে — ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এরপর থেকে সংক্রমণ ক্রমশ কমে আসে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭ জন। এ সময়কালে মৃত্যুর কোনো তথ্য ছিল না। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে হঠাৎ করে প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নেয়।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকাদানে গাফিলতিই এবারের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, ইতিমধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে এবং বর্তমানে হাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

টিকা–সংকট ও শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।’ তদন্তে সহায়তা করার বিষয়ে এই মন্তব্য ইউনিসেফের অবস্থান স্পষ্ট করে।