পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

0
সিলেটে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশ উদযাপনে মাতোয়ারা বাংলাদেশ দল ।। ছবি: সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত ইতিহাসটা লেখা হলো। সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। কেবল সিরিজ জয় নয়, এর সঙ্গে জুড়ে গেছে একাধিক ঐতিহাসিক কীর্তি।

বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৮৩টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে। কিন্তু একাধিক ম্যাচের সিরিজে কখনোই একই প্রতিপক্ষকে দুবার হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি — এমনকি ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও নয়। সেই দুর্লভ কীর্তিটা গড়তে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তানকেই বেছে নিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও পাকিস্তানকে ধবলধোলাই — টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের এই অগ্রযাত্রার এটি নিঃসন্দেহে নতুন মাইলফলক।

তবে পঞ্চম দিনের সকালটা বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না মোটেও। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ দিনে পাকিস্তানের সামনে ছিল ১২১ রানের সমীকরণ, বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩টি উইকেট। কিন্তু মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান রীতিমতো জমে গিয়েছিলেন উইকেটে। প্রথম ১ ঘণ্টার নির্বিষ বোলিং বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়েছিল। সুযোগ এসেছিল — নাহিদ রানার বাউন্সার পুল করতে গিয়ে সাজিদ বল তুলে দিয়েছিলেন আকাশে, কিন্তু লিটন দাস ও তাইজুল ইসলামের মাঝের ফাঁক গলে বলটি গিয়ে পড়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে। বাংলাদেশ শিবিরে তখন শঙ্কা, পাকিস্তান বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলে কি না!

ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে এলেন তাইজুল ইসলাম। পুরো সিরিজে বহুবার বল ও ব্যাট হাতে দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার, আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। তার বলে ডিফেন্ড করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন সাজিদ। রিজওয়ান-সাজিদের ৫৪ রানের জুটি ভাঙতেই বাংলাদেশ বুঝে গেল, ম্যাচ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

সেই অনুভূতিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে লাগল মাত্র ১১টি বল। শরীফুল ইসলামের বলে বিদায় নিলেন রিজওয়ান — সেঞ্চুরির মাত্র ৬ রান দূরে থেকে, ৯৪ রানে। এরপর তাইজুলকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন খুররম শাহজাদ। ৯৮তম ওভারে ৩৫৯ রানে অলআউট পাকিস্তান। আর তাতেই একসঙ্গে লেখা হয়ে গেল তিনটি অধ্যায় — ম্যাচ জয়, হোয়াইটওয়াশ, আর ইতিহাস।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক তাইজুল ইসলাম। সিরিজজুড়ে বোলিংয়ে তাইজুল, মেহেদী হাসান মিরাজ ও শরীফুল ইসলাম ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানকে চাপে রেখেছেন। ব্যাট হাতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস সিরিজে বড় ভূমিকা রেখেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের রেকর্ডও এখন বাংলাদেশের — নিজেদের সমগ্র টেস্ট ইতিহাসে কোনো একটি দলের বিপক্ষে এত টানা জয় আর কখনো আসেনি।