কেশবপুরে ৬০ বিলের সেচের পানিতে ১২টি গ্রাম প্লাবিত

0

জয়দেব চক্রবর্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ কেশবপুরে তিন ইউনিয়নের ৬০টি বিলের পানি সেচপাম্প দিয়ে নিষ্কাশন করছেন মাছের ঘের মালিক ও কৃষকেরা। তবে শ্রী নদীর নাব্যতা না থাকার পাশাপাশি ব্রিজ, কালর্ভাটের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ করায় বিলের পানি নদীতে নিষ্কাশনে বাধা পেয়ে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে।

পানির চাপে ইতোমধ্যে ১২টি গ্রাম তলিয়ে ভয়াবহ বন্যায় রূপ নিচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামের মানুষের চলাচলে প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিঙি নৌকা ও বাঁশের সাঁকো। এতে ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো।

জানা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নসহ ২৭ বিলের বর্ষার অতিরিক্ত পানি ডায়ের খাল দিয়ে শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হয়। ৯০‘র দশকে পাউবোর স্লুইস গেটের পাশাপাশি ২০০০ সালের দিকে এলাকার প্রভাবশালী ঘের মালিকেরা ব্রিজ, কালর্ভাটের মুখ বন্ধ করে ও অপরিকল্পত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ করায় বর্তমান বিলের পানি শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে না। ঘের মালিকেরা প্রতি শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে বিলগুলো ভরাট করে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে যেনতেন বৃষ্টিতেই পানি মানুষের বসতবাড়িতে উঠে যায়। এলাকায় দেখা দেয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। প্রায় সারা বছরই বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, নারায়ণপুর, কালিচরণপুর, আড়ুয়া, ময়নাপুর, সানতলাসহ ১২টি গ্রামের মানুষের বসতভিটায় পানি থাকে। ঘেরের কারণে জেলেরা বাধ্য হয় পেশা বদল করছে।

সরেজমিনে বাগডাঙ্গা ও মনোহরনগর, কালিচরণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের বাড়িতে এখনো
পানি থই থই করছে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে মানুষজনের বাড়িতে পানি। মাঝে পানি কিছুটা কমে
গিয়েছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। গরু ছাগল হাঁস
মুরগি নিয়ে পড়তে হচ্ছে মহাবিপাকে। জলাবদ্ধতা সমস্যার নিরসণের দাবি করা হলেও তা কেউ আমলে নিচ্ছে না।

মনোহরনগর গ্রামের অজিত মণ্ডলের বাড়িতে দেখা যায়, উঠানে কোমর সমান পানি। এখন বিল সেচ
চলছে, পানিও বাড়ছে। বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে গ্রামের মধ্যে
ঢুকে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত সাত মাস তারা পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। স্কুল কলেজের
শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশও নেই বাড়িতে।

পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে মানুষের স্বাস্থ্যও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়ছে পানিবাহিত রোগ ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হলেই যাতায়াতের জন্য ডিঙি নৌকা, বাঁশের সাঁকোই তাঁদের ভরসা। বিল ভরাট থাকায় প্রায় দুই যুগ ধরে এলাকায় কোনো ফসল হচ্ছে না। এতে গ্রামীণ অবকাঠামো একেবারেই ভেঙে পড়েছে।

২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, শ্রী নদীসহ তিন নদী ও সংযোগ খালের খনন কাজ চলছে। এতে সাময়িক জলাবদ্ধতার নিরসন হবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে শ্রী, হরিহর, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা নদী খননসহ ভবদহ অঞ্চলের যে কোনো একটি বিলে টিআরএম চালু করা না হলে এ সমস্যা সমাধান হবে।

কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদীর খনন কাজ চলছে। তারাই এটা দেখভাল করছে।