তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন যশোরে রাজনৈতিক নেতারা

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়েই নির্বাচনের সকল অনিশ্চয়তা এবং ধোঁয়াশা কেটে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

তফসিল ঘোষণার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে জেলা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখে। বিএনপির নেতৃত্বে জনগণ সেই ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে অবিচল ছিল। ফ্যাসিস্ট পতনের পর নির্বাচন হবে কি না সেটা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে সেই সংশয় কেটে গিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

আমি আশাবাদী এই নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে হবে। এর মাধ্যমে জনগণের দীর্ঘ দিনের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে। ফ্যাসিস্টের সীমাহীন নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করেও বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন করেছে। অতীতে যতবারই অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। আমি আশাবাদী আগামী নির্বাচনেও জনগণ বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় বিএনপির প্রতি আস্থা রাখবে এবং বিজয় নিশ্চিত করবে।

বিপ্লবী কমিউনিস্ট লিগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিয়ে জানিয়ে আসছিলাম। নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার স্বাগত জানাচ্ছি। আমি আশাবাদী এই নির্বাচন পেশি শক্তি কালো টাকা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং মুক্ত হবে। এখন থেকে নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সবকিছু শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় কমানো বিষয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে নির্বাচনের মাঠে কেউ যেন ধর্মের ব্যবহার করতে না পারে। কারণ নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার আরেকটি স্বৈরতন্ত্রের লক্ষণ। তবে নির্বাচন কমিশন যে এবারের নির্বাচনে জামানতের টাকা পরিমাণ যা নির্ধারণ করেছে, তাতে করে মধ্যবিত্ত অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী প্রার্থী হওয়ার মতো না।

জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক সাকিব শাহরিয়ার বলেন, প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনমুখী। কারণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো চায় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হোক। সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার দলের পক্ষ থেকে তফসিলকে স্বাগত জানাই। আমার দল পূর্ণ শক্তি নিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে দলের ১২৫ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। অল্পকয়েক দিনের মধ্যে বাকি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যশোর জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আব্দুল মান্নান বলেন, তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতির কাঙ্খিত স্বপ্ন পুরণ হতে যাচ্ছে। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে অনেকে আত্মত্যাগের বিনিময় ৫ আগস্ট বিজয় অর্জিত হয়। সেই আত্মত্যাগের অনেকতম লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যে ছিল ভোটাধিকার আদায়। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতির সেই কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণে হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সমগ্র জাতি এগিয়ে যাচ্ছে।

তফসিলের প্রতিক্রিয়া জানতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এবং সেক্রেটারি আবু জাফরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে গণঅধিকার পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি এবং যশোর- ৫ (মনিরামপুর ) আসনের দলীয় প্রার্থী এ বি এম আশিকুর রহমানের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখনও তফসিল পড়িনি। বাড়ি গিয়ে পড়ে আপনাকে পরে জানাবো।