অভয়নগরে ব্যবসায়ীকে বালিতে পুঁতে ৪ কোটি টাকা আদায়ের ঘটনা মিথ্যা দাবি

সাংবাদিকের স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের অভয়নগরে আলোচিত ‘ব্যবসায়ীকে বালিতে পুঁতে ৪ কোটি টাকা আদায়’ ঘটনায় ভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরীর স্ত্রী লাবণ্য রহমান।

শনিবার (৯আগস্ট) দুপুর ১২ টায় প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি করে বলেন, ‘শিল্প ও বন্দর নগরী যশোরের নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী মেসার্স জাফ্রিদী এটারপ্রাইজের মালিক শাহনেওয়াজ কবির টিপু অসংখ্য ব্যবসায়ীর শত শত কোটি টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেসব ব্যবসায়ী পাওনা টাকা আদায়ে অনঢ় তাদের বিরুদ্ধে কল্প কাহিনী সাজিয়ে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় টিপুকে ‘বালিতে পুঁতে ৪ কোটি টাকা আদায়ের’ কল্প বাহিনী সাজিয়ে তার স্বামী নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরী, আলহাজ কামরুজ্জামান মজুমদার, আসাদুজ্জামান জনিসহ ৫/৬ জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা করেছে। মূলত: তার স্বামী পাওনা টাকা আদায়ে মধ্যস্থতা করেছেন, চাঁদাবাজি করেননি।’

লিখিত বক্তব্যে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরীর স্ত্রী লাবণ্য রহমান উল্লেখ করেন, ‘আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের নওয়াপাড়ার এজেন্ট মেসার্স জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহনেওয়াজ কবির টিপু। তার কাছ থেকে গম ক্রয় করে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন। আমার স্বামীও এক যুগেরও বেশি সময় গমের পাশাপাশি কয়লা, সার, ভুট্টা ইত্যাদির ব্যবসা করে আসছেন। নওয়াপাড়ার মেসার্স জনি এন্টারপ্রাইজও টিপুর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। শাহনেওয়াজ কবির টিপু কোম্পানির বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে কমদামে গম বিক্রির কথা বলে বহু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা নিয়েছেন। মেসার্স জনি এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আসাদুজ্জামান জনি বিভিন্ন সময়ে নগদ ৪ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন শাহনেওয়াজ কবির টিপুকে। মফিজুর রহমান দপ্তরীও নিজের কিছু এবং কয়েকজন ছোট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট এক কোটি টাকা সংগ্রহ করে জনি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে টিপুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেন না শাহনেওয়াজ কবির টিপু। ইতোমধ্যে বকেয়া ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধ না করায় নাবিল গ্রুপ শাহনেওয়াজ কবির টিপুকে গম দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এখবর ছড়িয়ে পড়লে জনি এন্টারপ্রাইজ তার বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জনি এন্টারপ্রাইজের ইউসিবি ব্যাংকের হিসাব নম্বরে ২ কোটি টাকা প্রদান করে। বাকি ২ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার জন্য এক সপ্তাহ সময় নেয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হলেও টিপু টাকা না দিয়ে তালবাহানা শুরু করেন।’

লাবণ্য রহমান আরও বলেন, তার স্বামী মফিজুর রহমান দপ্তরী ধোপাদী এস.এস কলেজের প্রভাষক, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় অন্তত: এক ডজন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সামাজিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় এবং ব্যবসায়িক চুক্তির সময় তিনি উপস্থিত থাকায় জনি এন্টারপ্রাইজ বিষয়টি শাহনেওয়াজ কবির টিপুর সাথে যোগাযোগ করে বাকি টাকা এবং লভ্যাংশ আদায়ের ব্যাপারে কথা বলতে অনুরোধ জানায়। তার আরও কয়েক দিন পর নওয়াপাড়াস্থ জনি এন্টারপ্রাইজের অফিসে শাহনেওয়াজ কবির টিপুকে ডেকে পাঠায়। সেখানে মফিজুর রহমান দপ্তরীসহ আরও কয়েকজন ছিল বলে জানতে পারি।

একপর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করলে টিপু কয়েক ধাপে তার স্বামীর পূবালী ব্যাংক নওয়াপাড়া শাখার মেসার্স মফিজ ট্রেডিং এর হিসাব নম্বরে মোট ২ কোটি টাকা জমা দেন। টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথেই জনি এন্টারপ্রাইজের পাওনা এক কোটি টাকা তাদের একাউন্টে ফেরৎ প্রদান করেন। অবশিষ্ট ১ কোটি টাকা তার স্বামী মফিজুর রহমান যাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে বিনিয়োগ করেছিলেন তাদেরকে ফেরত দেন। এ ঘটনার পরেও কয়েক মাস জনি এন্টারপ্রাইজের সাথে জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের কয়েক কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন হয়েছে। ৪ কোটি টাকা পরিশোধের পরও জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের কাছে জনি এন্টারপ্রাইজের ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা থেকে যায়।

এই বাকি টাকার জন্য চাপ দেওয়ার পর ঘটনার এক বছর পরে এসে চলতি মাসের ২ তারিখে ঘটনা ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দিতে নিজের স্ত্রী আসমা খাতুনকে দিয়ে মিথ্যা কল্প কাহিনী সাজিয়ে তার স্বামী মফিজুর রহমানসহ আলহাজ কামরুজ্জামান মজুমদার, আসাদুজ্জামান জনি এবং অপর ৫/৬ জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা করেছে। তারই সূত্র ধরে সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় ‘ব্যবসায়ীকে বালিতে পুঁতে ৪ কোটি টাকা আদায়’ সংক্রান্ত অল্প কাহিনী তৈরি করে। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

লাবণ্য রহমান আরো বলেন, বিনিয়োগকৃত ব্যবসায়িক টাকা ফেরত নিতে গিয়ে তার স্বামীর সুনাম নষ্ট এবং প্রশাসন ও লোকলজ্জার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়াও এই টিপুর নিকট নওয়াপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন মোকামের ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি পাবে। যার কারণে তার স্থাবর অস্থাবর জমি জায়গা সেই সব ব্যবসায়ীদেরকে টিপু লিখে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে সরেজমিনে তদন্তের দাবি জানান নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরীর স্ত্রী লাবণ্য রহমান।ৎ

সংবাদ সম্মেলনে, লাবণ্য রহমানের শিশু সন্তান, ভাই মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আবু সুফিয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।