প্রতিটি সংকটে দেশের মানুষ বিএনপিকে কাছে পেয়েছে এবং আস্থা রেখেছে : তারেক রহমান

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটা সংকটকালীন মুহূর্তে মানুষ বিএনপিকে কাছে পেয়েছে এবং আস্থা রেখেছে। সে কারণে যখনই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে তখনই দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে। গতকাল যশোরসহ খুলনা বিভাগের তিন জেলায় বিএনপির ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ ও জনসম্পৃক্তি শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি কোন রাজনৈতিক দল কিভাবে এদেশের মানুষকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়ে যুদ্ধকে সঠিকভাবে সংগঠিত না করে সীমান্ত পার হয়ে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছে। আবার কাউকে কাউকে আমরা দেখেছি এদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন সেই স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করতে। কিন্তু বিএনপি স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের পাশে ছিল। যে কারণে দেশের মানুষ বারবার বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। জনগণ বিশ্বাস করে আগামীতে ভালো কিছু করতে হলে বিএনপির নেতৃত্বেই হবে।
বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে যশোরে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় হোটেল ওরিয়ন চত্বরে। সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় প্রশিক্ষণ কর্মশালা। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির প্রশিক্ষণ কর্মশালার দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম লিডার ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।
এছাড়া একই দিন ঝিনাইদহ ও নড়াইলেও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালার সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি তারেক রহমান তিন জেলার সাথে ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।
তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নির্যাতিত অত্যাচারিত হয়েছেন পলাতক স্বৈরাচার দ্বারা। আমি এবং আমার পরিবারও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যেকোন নির্যাতিত মানুষ তার নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চায়। আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই ৩১ দফা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক,গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। দেশের শিশুদের শিক্ষিত, বেকারদের কর্মসংস্থান, খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুন, শিল্পায়ন, মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। সেই কাজগুলোতে বাঁধা দেওয়া হয়েছে। তাই বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীর প্রতিশোধ সেদিনই সফল হবে যেদিন দেশের মাটিতে মানুষের জন্য ৩১ দফাকে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।
তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল বিভিন্নভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমরা সেটিকে মোকাবেলা করবো। বিএনপির প্রতি জনগণের যে আস্থা তৈরি হয়েছে এটি ধরে রাখার দায়িত্ব জনগণের না, বিএনপি নেতা-কর্মীদের। সামনের পথ মোটেও মসৃন নয়, বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করছে। অন্তর্বর্র্তীকালীন সরকারে প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পলাতক স্বৈরাচার দেশের অর্থনৈতিক লুটপাট, চুরি, দুর্নীতির মাধ্যমে সবকিছু সাফা করে দিয়েছে। বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ভেঙেচুরে ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে আগামীতে যে দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে তাদের অত্যন্ত কষ্ট হবে। কিন্তু সেই কষ্টকে আমরা হাসি মুখে সহজ করে নিতে পারবো সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি। এজন্য প্রথম বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না।

তারেক রহমান বলেন, যে রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সাথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক সাথে লড়াই সংগ্রাম করতে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ আমাদের ৩১ দফা কেবল বিএনপির নয়, সকল রাজনৈতিক দলের। কাজেই আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বড় দল হিসেবে জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং ৩১ দফা বাস্তবায়নের সব চেয়ে বেশি দায়িত্ব বিএনপির। যে অগণতান্ত্রিক অশুভ শক্তি যারা বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিশোধ সফল হবে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানকে দেশের মানুষ যখন রাষ্ট্র পরিচালনা দায়িত্ব দিয়েছেন তখন তিনি শ্রমিক, কৃষকের পাশে থেকে কাজ করেছেন। খাল খনন করেছেন দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন। পরবর্তীতে দেশে যখন স্বৈরাচার চেপে বসেছে তখন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষকে সংগঠিত করে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। দেশের মানুষ তার প্রতিদান দিয়েছেন। ১৯৯১ সালে ভোটের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের প্রতিটা সংকটকালীন মুহূর্তে মানুষ বিএনপিকে কাছে পেয়েছে এবং আস্থা রেখেছে। সে কারণে যখনই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে তখনই দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবর্তন কোন জাদু বা ম্যাজিক না, যে আমরা বলবো আর হয়ে যাবে। তার জন্য আমাদের নিজেদের প্রস্তুত হতে হবে। তার জন্য প্রথমে আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যদি মন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হয় তাহলে সেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহেনা আক্তার রানু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য ইস্রাফিল খসরু চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবীবা প্রমুখ।
বিকেল চারটায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন। এ সময় ৩১ দফার ওপর প্রশ্ন উত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান, কাজী আজম, চিকিৎসক নেতা ফারুক এহতেশাম পরাগ, বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবির সুমন, যুবদল নেতা আমিনুর রহমান মধু প্রমুখ।
অপরদিকে নড়াইলের চিত্রা রিসোর্টে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী কর্মশালায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এই ভিডিও কনফারেন্সে নড়াইল ছাড়াও যশোর ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির নেতারা অংশগ্রহণ করেন। জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের সঞ্চালনায় নড়াইলের কর্মশালায় মূল আলোচক ছিলেন-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. মাহাদী আমিন। উদ্বোধক ছিলেন-বিএনপির সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক নেওয়াজ হালিমা আরলী। আলোচক ছিলেন সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার ও নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।