মহাসড়ক গুলোতে ধস “বৃষ্টিতে”

0

শিকদার খালিদ ।। যশোর শহর ও উপশহরের মাঝ দিয়ে যে সড়কটি গেছে তার নাম ঢাকা রোড হলেও এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে রাজধানী ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গসহ দেশের অধিকাংশ জেলার মানুষ। সড়কটির মাঝ বরাবর ধসে পড়ছে। দুই পাশের পিচ, পাথর ও খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে জমে যায় পানি। এ অবস্থা যশোরের সকল মহাসড়কের। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ জেলার প্রতিটি মহাসড়কের ১ কিলোমিটার থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট-বড় সকল যানবাহনের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে বৃষ্টির কারণে ধস নেমেছে রাস্তায়।

যশোর থেকে ১৮ রুটেরও বেশি যানবাহন বাস চলাচল করে। এ জেলায় রয়েছে বেনাপোল স্থল বন্দর, নওয়াপাড়া নৌ বন্দর, সবজি ও ফুলের বড় মোকাম। কিন্তু জেলার প্রতিটি মহাসড়কের করুণদশা। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর সড়কগুলোর যেখানে যান চলাচলের চাপ বেশি সেখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, যশোর- খুলনা মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার, যশোর – সাতক্ষীরা মহাসড়কের নাভারণ থেকে বাগআঁচড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার, যশোর-ঝিনাদহ মহাসড়কের কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া যশোর ঢাকা মহাসড়কের মনিহার অংশে এক কিলোমিটার সড়ক বেহাল দশায় রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক আলাদা প্রকল্পের আওতায় ছয় লেনে উন্নতিকরণের কাজ চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া চুড়ামনকটি বাজার এলাকায় মহাসড়কের ভাঙা অংশে ইট দিয়ে সোলিং রাস্তা তৈরি করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ অংশে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রতিদিন চলাচলকারীদের।

শাহাআলম নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘বিগত দিনে এসব সড়ক সংস্কারের নামে টেন্ডারবাজি এবং দুর্নীতি হয়েছে। যার কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে যশোরের বিভিন্ন মহাসড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও তা মেরামত ও স্থায়ী সংস্কার করতে বার বার ব্যর্থ হয়েছে সড়ক বিভাগ।’

চুড়ামনকাটি বাজারের মুদি দোকানি মফিজুর রহমান বলেন, ‘গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের চুড়ামনকাটি বাজার অংশের এই মহাসড়কের বেহালদশা। বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন সময় খোয়া ঢালাই দিয়ে মেরামত করে দিয়ে গেলেও তা টেকসই হয়নি। সর্বশেষ কিছুদিন আগে গোটা বাজার অংশের সড়কটিতে ইটের সলিং করে রেখে চলে গেছে। এখন প্রতিনিয়ত এখানে ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে।’

দেলোয়ার ফরাজি নামে এক সিএনজি চালক বলেন, ‘মহাসড়কে খানাখন্দ যেমন দুর্ভোগ তেমন আরেক প্রকার দুর্ভোগ হলো খানাখন্দগুলোতে ইটের সলিং দেওয়া। এটা কোন সমাধান নয়। এতে যাত্রীদেরও ভোগান্তি হয়। ইটের খোয়া আদলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া সড়কে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয় মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনগুলো।’

রিফাত হোসেন নামে আরেক মোটরসাইকেল চালক বলেন, দুদিন আগেও চুড়ামনকাটি বাজারে ইটের সলিংয়ে ওপর একটি মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন দুর্ঘটনা অহরহ ঘটছে। মহাসড়কগুলোতে জায়গায় জায়গায় এমন ইটের সলিং আর খানাখন্দ দুর্ঘটনার মাত্রা এবং প্রাণহানির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এ বছর বর্ষায় যশোরের বিভিন্ন মহাসড়কগুলোতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যশোর-খুলনা, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বেশ কিছু অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো আমরা জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে থাকি। এবছর যশোর-খুলনা মহাসড়কে আড়াই কিলোমিটার রাস্তার ঢালাই কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া বিভিন্ন মহাসড়ক জরুরি সংস্কারের জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে ৭ কোটি টাকার চাহিদা ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জরুরি সংস্কারের ক্ষেত্রে মহাসড়কগুলোতে ইটের কাজ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্ষা মৌসুমে বিটুমিনের কাজ করা যায় না, এ সময় জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে ইট দিয়ে প্রাথমিক সংস্কার কাজ করে থাকি।’