চৌগাছায় পত্রিকা পরিবেশক শফির দুর্বিষহ জীবন

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছার সকলের পরিচিত মুখ শফিউদ্দিন শফি। যিনি পত্রিকা নিয়ে ছুটে গেছেন বাসা-বাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত সর্বত্রই। সেই শফি আজ পঙ্গু ।বছরের পর বছর ধরে শুয়ে থাকেন বিছানায়। মাথা গোঁজার মত নেই তেমন একটি ঘরও। স্ত্রী হারা শফি অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অসহায়। সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি তার একটি বাড়ির খুবই প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে হঠাৎ ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন পত্রিকা পরিবেশক শফিউদ্দিন (৬০)। এরপর তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করে অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। মাত্র এক বছর পরেই তার স্ত্রী হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন।
দুটি শিশু সন্তান আরিফ হোসেন ও জান্নাতি আক্তার বড়ই অসহায় হয়ে পড়ে। ছোট বয়সেই আরিফ দিনমজুরের কাজ করে সংসারের চাকা সচল রাখার চেষ্টায় বিভোর। থেমে যায় তার লেখাপড়া। অনার্সে ভর্তি হয়েছেন ঠিকমত ক্লাস করতে পারেন না। অসুস্থ পিতা, ছোটবোনের দেখাশুনা ও দিনমজুরের কাজ করতে করতে দিশেহার আরিফ।
পঙ্গু শফিউদ্দিনের ছেলে আরিফ জানান, আব্বু পাঁচ বছর ধরে ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। পঙ্গু হওয়ার মাত্র এক বছর পরেই মা চলে গেছেন পরপারে। আমরা কীভাবে বাঁচব? কীভাবে আব্বুকে দেখব? ওষুধ কেনার টাকা নেই। ঘরে চাল থাকে না। ভাঙ্গা খুপড়ি ঘরের বারান্দায় আব্বুকে রেখেছি। ছোট বোনটাও বড় হচ্ছে। একটি ঘরের খুব দরকার। এভাবে কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন চৌগাছার পত্রিকার পরিবেশক ও সিংহঝুলী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের পঙ্গু শফিউদ্দীনের ছেলে আরিফ হোসেন। পাশে উপস্থিত থেকে ছোট বোন জান্নাতিও অঝোরে কাঁদতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে গণমাধ্যম কর্মীদেরও চোখের পাঁপড়ি অশ্রুতে ভিজে ওঠে।
আরিফ হোসেন আরও বলেন, আব্বুর চিকিৎসা দরকার। জান্নাতি ৬ষ্ট শ্রেণিতে পড়ে। ওর লেখাপড়ার খরচও আছে। দুই ভাইবোন দিনে একবেলা রান্না করে নিজেরা খাই আর আব্বুকে খাওয়ায়। ঝুপড়ি ঘরের বারান্দায় আব্বু একদিন দুইদিন বা মাস না, বছরের পর বছর পড়ে আছেন। তার গোসল, বাথরুম, খাওয়া, পোষাক পরিবর্তন সবই আমরা দুই ভাইবোন মিলে করি। বারান্দায় টিনের ওই ছাউনির নিচে প্রচন্ড গরমে আব্বু আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সরকারি একটি ঘর হলে আমাদের জন্যে খুব ভালো হতো।