হরিণাকুণ্ডু থেকে দুই মাস আগে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায়, আটক ২

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার তেলটুপি গ্রাম থেকে দুই মাস আগে নিখোঁজ যুবক ছয়ফলের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ । বুধবার মধ্যরাতে ছয়ফলের গলিত লাশ কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বদ্দিনাথপুর গ্রামের শ্মশান ঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহত ছয়ফল হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তেলটুপি গ্রামের নিজাম উদ্দীনের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ মনিরুল ইসলাম ও মজনু নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, গ্রেফতার মনিরুল ছয়ফলের বাড়িতে শ্রমিক বা কামলার কাজ করতো। নিখোঁজের দিন ছয়ফল ১৪ শতক জমি বিক্রি করেন। মনিরুল এই টাকা লেনদেনের কথা জানতো। ছয়ফল বাড়ি ফেরার আগেই ঘাতক মনিরুল মোবাইল ফোনে তাকে কৌশলে ঝাউদিয়া বাজারে ডেকে নেয়। তার ধারণা ছিল ছয়ফলের কাছে জমি বিক্রির টাকা ছিল। তারপর থেকেই নিখোঁজ হন ছয়ফল। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, মনিরুলের বাড়ি কুষ্টিয়ার ইসলামী শ্বিবিদ্যালয় থানার আস্তানগর গ্রামে। অন্যদিকে মজনুর বাড়ি একই উপজেলার ক্ষুদ্র আইলচারা গ্রামে। তারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
তেলটুপি গ্রামের আলাল উদ্দীন জানান, নিহত ছয়ফল হোসেন কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক দল করতেন না। সাধারণ কৃষক ছিলেন। ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া বাজারে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন। সেই থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় ১৭ নভেম্বর তার ভাই নয়ফল হোসেন থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। জিডির সূত্র ধরে হরিণাকুণ্ডু থানার পুলিশ গত বুধবার রাতে ছয়ফলের লাশের সন্ধান পান। তিনি আরও জানান, জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নিতেই তারই বাড়ির কাজের লোক মনিরুল তাকে হত্যা করেছে বলে গ্রামবাসী মনে করছে। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেটের সূত্র ধরে কুষ্টিয়ার বদ্দিনাথপুর শ্মশান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে ছয়ফলের লাশ তেলটুপি গ্রামে পৌঁছালে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।