সরকারি খামার থেকে স্বল্পমূল্যের মুরগি ও ডিমের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে বঞ্চিত যশোরবাসী

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ দীর্ঘদিন ধরে এতদঞ্চলের মানুষ যশোর সরকারি মুরগি খামার থেকে স্বল্পমূল্যে কেনা মুরগি ও ডিমের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে বঞ্চিত রয়েছে। সরকার এই খামারের প্রতি সঠিক দৃষ্টি না দেওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ ও জনবল সংকটের কারণে এখন ধুকছে সরকারি মুরগি খামারটি। যদিও যশোর সরকারি মুরগি খামারের বর্তমান কর্তৃপক্ষ সার্বিক সংকট নিরসনে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে।
শহরের শংকরপুরে ২৭ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত যশোর সরকারি মুরগি খামারে রয়েছে ২২টি শেড। ১ দিনের মুরগির বাচ্চা, ডিম উৎপাদনের মুরগি ও খাবার মুরগি পালনের জন্য এই শেডগুলো ব্যবহারের কথা। ওই ২২টি শেড নিয়মিত ব্যবহৃত হলে এখানকার মানুষ স্বল্পমূল্যে প্রতিপালনের ১দির বয়সের বাচ্চা ক্রয়ের সুবিধার পাশাপাশি খামার মুরগি ও ডিমের কিছুটা চাহিদা পূরণ করতে পারতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকার খামারটির প্রতি উদাসীন থাকার কারণে অর্ধেকেরও বেশি শেড আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। যে কারণে মুরগি ও বাচ্চা ডিম উৎপাদনও আশঙ্কাজনভাবে কমে গেছে। মানুষ এই খামার থেকে তেমন একটা সুবিধা না পাওয়ায় তাদের বেসরকারি খামারে উৎপাদিত খামার মুরগি ও ডিম বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে বেসরকারি মুরগি খামারে উৎপাদিত ১টি ডিমের দাম ১১টাকা। অথচ সরকারি মুরগি খামারে উৎপাদিত ১টি ডিমের দাম সাড়ে ৭ টাকা। তেমনি বেসরকারি খামারের তুলনায় সরকারি খামারে উৎপাদিত খাবার মুরগির দামও তুলনামূলক কম। উল্লিখিত ২২টি শেড নিয়মিত ব্যবহৃত হলে এতদঞ্চলের বিশেষ করে যশোর শহরের মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত মানুষ ডিম ও মুরগির চাহিদার কিছুটা সুবিধা পেতো।
যশোর সরকারি মুরগি খামারের বর্তমান উপ-পরিচালক মো. বখতিয়ার হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ এবং জনবলের চরম সংকটের কারণে খামারটি পরিচালনার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখানে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২৮ জন। সেখানে রয়েছেন তারা মাত্র ৬ জন। বিশেষ করে পোল্ট্রি অফিসার, পোল্ট্রি অ্যাটেনডেন্ট ও ইলেক্ট্রিশিয়ানের জরুরি প্রয়োজন। কিন্তু পোল্ট্রি অফিসারের দুইটি পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ১জন ইলেক্ট্রিশিয়ান থাকার কথা থাকলেও এই পদে বর্তমানে কোনো লোক নেই। অপরদিকে পোল্ট্রি অ্যাটেনডেন্টের সবগুলো পদই শূন্য। একদিকে যেমন অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ অপরদিকে তীব্র জনবল সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এতো সমস্যা থাকার পরও খামারের উন্নয়নের জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ২২টি শেডের মধ্যে বর্তমানে ১৪টি শেড ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এর ১৪টির অর্ধেকই ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি ৮টি শেড সংস্কার করলে ব্যবহার করা সম্ভব বলে তিনি আরও জানান।
যশোর সরকারি মুরগি খামারের দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিলো বহিরাগতদের উৎপাত। বিশেষ করে প্রাচীর ছোট থাকায় সহজেই টপকে ভেতরে ঢুকে খামারের ভেতরের ঢুকে নানাভাবে উৎপাত করতো দুর্বৃত্তরা। তবে কয়েক মাস আগে প্রাচীর উঁচু করে দেওয়ায় এই সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-পরিচালক।