মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে যুবকের সাথে প্রতারণা, ৪ জনের নামে যশোরে কোর্টে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আপন ফুফুসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার যশোরের আদালতে মামলা করেছেন লিটন গাজী নামে এক যুবক।
মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে পৌনে ৫ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে তিনি মামলাটি করেছেন। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। লিটন গাজী মণিরামপুর উপজেলার চাকলা নেওলা পাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি পুলিশকে আদেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার চাকলা নেওলা পাড়ার বাসিন্দা মুনছুর গাজী, তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, ছেলে রিপন এবং ঢাকা পুরনো পল্টনের বিবিএস ওভারসিজের ম্যানেজিং পার্টনার এ বি এম মান্নান হাওলাদার।
লিটন গাজী মামলায় উল্লেখ করেছেন, আসামি রিপন তার ফুফুতোভাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। লিটন গাজীকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রলোভন দেখান। তাকে বলা হয়, আসামি মান্নান হওলাদারের মাধ্যমে লিটন গাজীকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। মান্নান হাওলাদার বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় লোকবল পাঠিয়ে থাকেন। রিপনের কথায় বিশ্বাস করে মালয়েশিয়ায় যেতে রাজী হন লিটন গাজী। এরপর রিপন দেশে ফিরে এলে ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে এবং তার মা সুফিয়া খাতুন ও পিতা মুনছুর গাজীকে মোট ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেন লিটন গাজী। এ সময় লিটন গাজীকে জানানো হয়, ৪ মাসের মধ্যে আসামি মান্নান হাওলাদার তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাবেন। অন্যথায় লিটন গাজীকে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিটন গাজীকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন আসামিরা। এক পর্যায়ে লিটন গাজীর কাছে আরও ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন আসামি রিপন। এই টাকা আসামি মান্নান হাওলাদারের ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বলা হয়। রিপনের কথামত মান্নান হাওলাদারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯০ হাজার টাকা জমা দেন লিটন গাজী। এরপর আসামিরা লিটন গাজীকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন। এ কারণে গত ২৯ আগস্ট আসামি মুনছুর গাজী ও সুফিয়া খাতুনের কাছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত চান লিটন গাজী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তাকে গালিগালাজ এবং মারধর করেন। যে কারণে বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন লিটন গাজী।