চুয়াডাঙ্গায় ইজিবাইক চালক হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

0

 

রিফাত রহমান,চুয়াডাঙ্গা॥ চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার ইজিবাইক চালক জহুরুল ইসলামকে হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডসহ প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, ১ জনের ২ বছর কারাদণ্ড এবং ২ জনকে বেকসুর খালাসের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বেলা ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ আলী পলাতক দু্ই অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ সন্দেহতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জনাকীর্ণ আদালতে বিচারক এ রায় পড়ে শোনান।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, যশোর কতোয়ালি থানার চাঁচড়া রায়পাড়ার আব্দুস ছালামের ছেলে বর্তমান ঠিকানা চুয়াডাঙ্গা শহরের হকপাড়ার সাহেব আলীর ঘর জামাই পলাতক ফজলুর রহমান ফজলু, ঠাকুরগাঁও জেলার মাধবপুর শিমুলতলী কর্নপাড়ার গনেশচন্দ্র রায় ওরফে ঘটশ্যাম ওরফে বগার ছেলে এবং চুয়াডাঙ্গা শহরের গোরস্থানপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী আলেকের বাড়ির ভাড়াটিয়া দীপক কুমার রায় ওরফে শান্ত ওরফে অমর বর্মণ এবং গোপালগঞ্জ জেলার গাড়ইগাত গ্রামের শহীদুল ইসলাম মোল্লার ছেলে ও বর্তমান ঠিকানা চায়ের দোকানদার নুরু মোল্লার শাশুড়ির শহরের হকপাড়ার নাজমার বাড়ির ভাড়াটিয়া আবু সুফিয়ান ওরফে শান্ত মোল্লা। এদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলেন, পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর থানার সেউতিবাড়িয়া গ্রামের মরহুম সেকেন্দার আলী হাওলাদারের ছেলে বর্তমান ঠিকানা খুলনা সিটিকর্পোরেশনের সোনাডাঙ্গার এসকেন ঠিকাদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া পলাতক আসামি জয়নাল হাওলাদার।
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া রেলবস্তির ইয়ামিন আলীর ছেলে দিলন ও দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর বাগানপাড়ার ইয়াকুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ১০ আগস্ট দুপুরে পুলিশ লোকমুখে খবর পায়, দর্শনা পৌর এলাকার পরানপুর-লোকনাথপুর পাকা সড়ক সংলগ্ন বেগুন ক্ষেতের মধ্যে এক ব্যক্তিকে কে বা কারা গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মো. নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে দামুড়হুদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হত্যাকান্ডের শিকার ইজিবাইক চালক জহুরুল ইসলামের ছেলে অহিদুল ইসলাম (২৪) এ মামলার বাদি হন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৬ জনকে আসামি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন ও আসামি পক্ষের অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি সাগর।