রহস্যময় আগন্তুকের মোবাইল ফোন কেচ্ছা সাফখোলা গ্রামে!

0

মফিজুল ইসলাম শৈলকুপা(ঝিনাইদহ)॥ গত ২৩ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় ফেরদৌসের। জানালায় চোখ পড়তে দেখেন টর্চের আলো। কৌশলে জানালার কাছে গিয়ে দেখতে পান বাইরে থেকে জানালা দিয়ে মোবাইল ফোনসহ একটি হাত ঢুকেছে ঘরে এবং ভিডিও হচ্ছে। তিনি হাতের উপর সজোরে আঘাত করলে ঘরের মধ্যে পড়ে যায় মোবাইল ফোন এবং পালিয়ে যায় আগন্তুক। মোবাইল ফোন দিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে ভিডিও করা হচ্ছিল। ওই ফোনের গ্যালারিতে দেখা যায় গ্রামের দেড় শতাধিক দম্পতি ও নারীর ব্যক্তিগত সময়ের ও ঘুমন্ত অবস্থার ভিডিওচিত্র ও ছবি। এ ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে জানা যায়, গত প্রায় দেড় বছর ধরে এমন এক আগন্তুক রাতে বিভিন্ন বাড়ির জানালার কাছে ঘোরাফেরা, ছবি তোলা ও নারীদের বাইরে থেকে পাটকাঠি দিয়ে খোচা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।
এটি ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের সাফখোলা গ্রামে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি এবং তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ তৎপর হলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি।
গ্রামের নারীরা জানান, রাতে ঘুমালে জানালায় এসে ফোনের আলো দেয়, অনেক সময় পাটকাঠি দিয়ে আমাদের শরীরে খোঁচা দেয়। এতে চিৎকার দিলে সে পালিয়ে যায়, কাউকে ধরা যায় না। অনেক মেয়ে ভয়ে রাতে এখন ঘুমাতে পারে না।
সাপখোলা গ্রামের যুবক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে। স্ত্রীকে গ্রামে রেখে তিনি থাকেন কর্মস্থলে । তার স্ত্রী প্রায় গভীর রাতে ঘরের পাশে মানুষের আনাগোনা আর উপস্থিতি টের পান। তার ঘরে পাটকাঠি দিয়ে খোঁচা দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি ছেড়ে তিনি এখন বাড়িতে অবস্থান করছেন ।
একই গ্রামের কৃষক ফেরদৌস জানান হঠাৎ তার ঘরের ভেতরে জানালা দিয়ে টর্চের আলোর উপস্থিতি টের পান। কৌশলে জানালার কাছে দাড়িয়ে দেখতে পান একটি মোবাইল ঢুকিয়ে ভিডিও করছে এক যুবক। তিনি থাবা দিয়ে মোবাইল কেড়ে নেন তবে ওই যুবক পালিয়ে যায়। ঈদের দিন রাতে এমন ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য টিটো শিকদার জানান, অপরাধী চক্রের একটি মোবাইল তারা পেয়ে সামাজিকভাবে বসে জানার চেষ্টা করেন সেটি কার, পরে ফোনটি পুলিশ কে দিয়েছেন। সেই মোবাইলে গ্রামের বিভিন্ন পরিবার ও নারীদের দেড় শতাধিক ভিডিও-ছবি রয়েছে, যার সবই ব্যক্তিগত। সেই ভিডিও ধারনের সময়কাল দেড় বছরের বেশি । এমন পরিস্থিতিতে গ্রামে রাতে পাহারা বসানোও হয়েছে। এসবের মাঝেও ঘটে চলেছে এমন গুরুত্বর সাইবার অপরাধ।
এদিকে গ্রামবাসী মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার সিম শনাক্ত করতে পারে। সিমটি সাপখোলা গ্রামের এক তরুণী ব্যবহার করতেন। সেই তরুণী অভিযোগ করছেন, সিমটি তার আত্মীয় আজমুলের ছেলে পার্থ ওরফে তুরাগ জোর করে কেঁড়ে নেয় ২বছর আগে। ব্লাকমেইলসহ ছবি তুলে হুমকি দিয়ে রাখে সিমের কথা ফাঁস করলে ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে এবং হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে।
এ ব্যাপারে তুরাগ ও তার পরিবারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি।
বতমানে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামজুড়ে। রাতে নিজ বাড়ি-ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে না পারায় ভয়, উদ্বেগ আর আতঙ্ক তাদের মধ্যে।
শৈলকুপা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, নারীদের ব্যক্তিগত ভিডিওসহ নানা ভিডিও ধারণ হয়েছে। তবে এমন ঘটনায় থানায় এখনো মামলা হয়নি। তারা ঘটনা জানতে পেরে গ্রামবাসী যে মোবাইল পেয়েছিল তা জব্দ করেছেন। সাপখোলা গ্রামের পার্থ ওরফে তুরাগ নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এছাড়া সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ টিম কাজ শুরু করেছে। এর সাথে যেই জড়িত হোক তাকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।