ঠান্ডু ও মন্টু জমজ দুই ভাইয়ের জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে শুধুই মিল

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহ সদরের বানিয়াকান্দর গ্রামে জমজ দুই ভাই হানজিলার রহমান ওরফে ঠান্ডু  ও তানজিলার রহমান ওরফে মন্টু। পড়ালেখাও করেছেন এক সঙ্গে, পড়ালেখা শেষে চাকরিও পেয়েছেন একই চিঠিতে। কর্মস্থলেও যোগ দিয়েছিলেন একই দিনে। অবসরের ক্ষেত্রেও তাই। ঠান্ডু ও মন্টু মিয়ার বাড়ি সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর গ্রামে। অবসরের পর দুই ভাই মিলে বাড়িতে মিনি পার্ক তৈরি করেছেন। এখন ওই পার্কের দেখভাল করেন। বানিয়াকান্দর গ্রামে দুই ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত ঠান্ডু ও মন্টু ফ্যামিলি পার্কে যান এই প্রতিবেদক। এ সময় দুই ভাই বলেন, ১৯৬২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১০ মিনিটের ব্যবধানে জন্ম হয় তাদের। তাদের সবকিছুই যেমন অনেক মিল, জীবনে প্রায় সব কাজই করেছেন একসঙ্গে। বানিয়াকান্দর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঠান্ডু ও মন্টু মিয়ার মিলের কোনো শেষ নেই। অনেক জমজ রয়েছে, তবে এতটা মিল কোথাও দেখা যায় না। তাদের বাবা বিশারত আলী অনেক আগে মারা গেছেন। মা রাহেলা খাতুন বেঁচে আছেন। তারা তিন বোন আর দুই ভাই। ঠান্ডু মিয়ার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। মন্টু মিয়া তিন মেয়ের বাবা। ঠান্ডু মিয়া বলেন, বাবা ১৯৬৭ সালে দুই ভাইকে কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। এরপর তারা প্রতি শ্রেণিতে এক সেট বই কিনে পড়ালেখা করেছেন। এভাবে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন। এরপর ১৯৭২ সালে বেড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিদ্যালয়টি তখন নিম্ন মাধ্যমিক ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় একটি বার্ষিক পরীক্ষায় দুই ভাই একই নম্বর পান। এরপর বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক (বর্তমান ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান) আবদুর রশীদ তাদের দুজনকে অফিস কক্ষে ডেকে আনেন। এরপর দুজনের সম্মতিতে প্রধান শিক্ষক ছোট ভাইকে প্রথম ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আব্দুর রশীদ বলেন, দুজন একই নম্বর পাওয়ায় তাকে এটা করতে হয়েছিল। তারা দুই ভাই খুবই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৭ সালে এসএসসি পাস করেন ঠান্ডু ও মন্টু মিয়া। সেখানেও তাদের দুজনের প্রাপ্ত নম্বর ছিল একই। ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ১৯৭৯ সালে। এরপর তারা একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। মন্টু মিয়া বলেন, পড়ালেখা শেষে তারা চার বছর বাড়িতে কৃষি কাজ করেছেন। এরপর ১৯৮৬ সালে দুজনই একসঙ্গে পরিসংখ্যান অধিদফতরে চাকরির আবেদন করেন। ঢাকায় মৌখিক পরীক্ষার সময় ঠান্ডু পরীক্ষাকক্ষে প্রথম প্রবেশ করেন। তিনি বেরিয়ে এলে ভেতরে যান মন্টু। তাকে দেখে উপস্থিত কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়ে জানতে চান, ‘এইমাত্রই তো সাক্ষাৎকার দিয়ে গেলেন, আবার কেন এসেছেন?’ মন্টু বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন। এরপর একই চিঠিতে ১৬ জনকে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়, যাদের মধ্যে তারা দুই ভাই ছিলেন। ওই বছরের ৮ এপ্রিল ঢাকায় একসঙ্গে চাকরিতে যোগ দেন ঠান্ডু ও মন্টু। চাকরি জীবনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাটিয়েছেন দুই ভাই। অবসর গ্রহণের আগে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু অফিস থেকে ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা একসঙ্গে চাকরি জীবন শেষ করেন। বর্তমানে বাড়ির সঙ্গে থাকা ৬০ শতক জমিতে পার্ক গড়ে তুলেছেন ঠান্ডু আর মন্টু মিয়া। যেখানে গাছের পরিচর্যা করে সময় কাটে তাদের। এই জমজ দুই ভাই বলেন, এক জীবনে একে অপরের সঙ্গ ছাড়েননি। অনেক সময় দুই ভাইকে গুলিয়ে ফেলেছেন অনেকে। এ কারণে জীবনে অনেক মজার ঘটনা ঘটেছে। কেউ জানতে চাইলে জীবনের এসব ঘটনার স্মৃতিচারণার ঝাঁপি খুলে বসেন তারা।