মনিরামপুরে সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সহকারী শিক্ষিার হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে পরিকল্পি বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোরের মণিরামপুরের দেলুয়াবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীহার রঞ্জন রায়।  সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণ করার অভিযোগ আনা সহকারী শিক্ষিকা সালেহা খাতুন লতার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ আনেন তিনি। এসময় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানীর অভিযোগও তোলেন প্রধান শিক্ষক নীহার রঞ্জন।
গত ১১ ডিসেম্বর স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুলটির সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থগার ও তথ্য) সালেহা লতা প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ করা হয় প্রধান শিক্ষক তাকে মারপিট ও কাপড় ধরে টানাটানি করেছেন। এসময় শিক্ষিকা সালেহা খাতুন লতার হাতে লাঞ্ছিত হন প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে গত কয়েকদিনে পত্রপত্রিকাসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ঘটনার এক সপ্তাহ পর তিনি গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই ওই শিক্ষিকার দ্বারা নানাভাবে হয়রানি হয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে তিনি (সহকারী শিক্ষিকা) স্কুলের কোনো নিয়মনীতি না মেনে চলায় শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সকলেই তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বললে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তাকে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিলে তিনি নোটিশটি গ্রহণ না করে উল্টো আমাকে ফাঁসিয়ে দিতে সেদিনের এই আপত্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই শিক্ষকার বিরুদ্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষিকা সালেহা খাতুন লতা সব সময়ই অদৃশ্য ক্ষমতাবলে শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখান। বিদ্যালয় চলাকালে বাইরে গিয়ে মোবাইলে কথা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিনাঅনুমতিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া, বিদ্যালয়ের তথ্য উপাত্ত বাইরে প্রকাশ করার পাশাপাশি ধর্মীয় উস্কানি দেয়ারও অভিযোগ আনা হয়। তবে কোন ধরণের ধর্মীয় উস্কানী দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা সালেহা খাতুন লতা বলেন, প্রধান শিক্ষক সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন এর বিন্দুমাত্র কোনো ভিত্তি নেই। তিনি অপরাধ আড়াল করতেই এখন এ নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। একটি বিশেষ মহলের টার্গেটে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি প্রভাশ চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, মণিরামপুর পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার বিশ্বাস, জয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার সরকারসহ আরও অনেকে।