‘বিএনপির আমলে ডিমের হালি ছিল ১১ টাকা, এখন তা দিয়ে একটি পাওয়া যায়’

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, আজকে ক্ষমতাসীন সরকারের ব্যর্থতার কারণেই মানুষ জেগে উঠেছে। জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে। দেশে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সে কারণেই মানুষ জেগে উঠেছে। আমরা এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব না। তারা দিনের ভোট রাতে করেছে। নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। ইনশাআল্লাহ আমরা আন্দোলনে জয়ী হব।নোমান বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবে। সেখানে সরকারের পরিবর্তন ঘটাবে সেটা আমরা বলতে পারি না। কিন্তু দেশের মানুষ সরকারের পরিবর্তন ঘটাবে। তাদের প্রত্যাশা বিএনপির প্রতি বেশি। ইনশাআল্লাহ সরকারের পতন হবে। তাদের পতন বেশি দূরে নয়। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রাণিখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি : বিপর্যস্ত পোল্ট্রি ও ডেইরি খামার’ এই সেমিনার আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব), ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। ঢাকা মহানগর উত্তর অ্যাবের সভাপতি কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহসানুল হক। অ্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলমের পরিচালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অ্যাবের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, সদস্যসচিব ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, কৃষিবিদ বিএম আলমগীর কবির, কৃষিবিদ ইয়ার মাহমুদ প্রমুখ। আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে পণ্যের দাম বেশি। আমাদের আমলে ডিমের হালি ছিল ১১ টাকা। অথচ এখন একটি ডিম ১১ টাকার বেশি। মুরগিতে লাভ হচ্ছে না। কারণ গবেষণা নেই। বাজেটস্বল্পতা। অনেক সময় বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের নামও বলা হয় না। বলে যে কৃষি উপকরণ। তিনি বলেন, আমরা ইলিশ সংরক্ষণ তথা মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ দিয়েছিলাম। আমাদের আরো বেশি গবেষণা করতে হবে। উৎপাদন ও সরবরাহ সমন্বয় করতে হবে। নোমান বলেন, সরকার যাবে আসবে। কিন্তু দেশের উন্নয়নের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। রপ্তানিমুখী উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। তা না হলে সংকটের সমাধান হবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে সংস্কার ও আধুনিক করা হয়েছে। ধান চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎপ্রকল্প করেছেন। যে কারণে উত্তরবঙ্গের ৯০ শতাংশ এলাকায় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি ট্যাক্স মওকুফ করেছিলেন। কৃষির সেচের জন্য খাল খনন করেছিলেন। ফলে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমাদের সময় খাদ্য উদ্বৃত্ত ছিল। সেগুলো জনসংখ্যার অনুপাতে বেশি ছিল। আওয়ামী লীগ যা বলে তা সঠিক নয়। তাদের আমলে ১২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য রপ্তানি করেছিল। আমরা খালেদা জিয়ার শাসনামলে এসে তো আবার খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখেছিলাম। ফিশারিজ ও পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। আজকের খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। কারণ তিনি বাইরে থাকলে আমাদের আন্দোলন আরো জোরদার হতো। কিন্তু আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করছি। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। আজ মানুষ জেগেছে। তাদের ঘুমাতে দেওয়া যাবে না। তাদের আরো উজ্জীবিত করতে হবে। আমরা বিজয়ের মুখোমুখি। ইনশাআল্লাহ আমাদের জয় হবে।