যশোরে ছুরিকাঘাতে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে, ইজিবাইক চালক আটক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে। তার নাম মোস্তাফিজুর রহমান (৩২)। তিনি আরএস ফিড কোম্পানির ডিভিশনাল সেলস ম্যানেজার পদে চাকরি করতেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সুলতানপুর সাহাপাড়ার আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছোট ছেলে তিনি। সোমবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেছেন স্ত্রীসহ স্বজনেরা। এদিকে এই হত্যার ঘটনায় নিহত মোস্তাফিজের বড় ভাই আব্দুল মোত্তালিব শিমুল বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশ মোস্তাফিজকে বহন করা ইজিবাইক চালককে আটক করেছে।
এ ঘটনায় জড়িতরা অধিকাংশই যশোর সদরের সন্ত্রাসপ্রবণ বিরামপুর কালীতলা এলাকার বাসিন্দা। হত্যাকা-ে মূল অভিযুক্ত ইমরান নামে এক যুবক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মোস্তাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনায় রাব্বি হাসান (২৩) নামে আরো একজনকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার রাতে যশোর শহরতলীর বিরামপুর কালীতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। রাব্বি হাসান একই এলাকার মৃত শরিফুল ইসলামের ছেলে। তার ইজিবাইকের ভেতর মোস্তাফিজুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিলো। সূত্র আরো জানায়, রক্তাক্ত মোস্তাফিজুর রহমানকে হাসপাতালে রেখে একই ইজিবাইকে করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায় হত্যাকারী দলের কয়েকজন। পরে অন্য একটি জায়গায় গিয়ে ইজিবাইকের ভেতরের রক্ত পানি দিয়ে পরিষ্কার করে রাব্বি হাসান। আটকের পর তার ইজিবাইকও জব্দ করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার বিকেলে অন্তর মন্ডল নামে একজনকে আটক করা হয়েছিলো।
নিহতের বড়ভাই আব্দুল মোত্তালিব শিমুল জানান, তার ছোটভাই মোস্তাফিজুর আরএস ফিড কোম্পানির ডিভিশনাল সেলস ম্যানেজার পদে চাকরি করতেন। সাতক্ষীরা শহরের কলেজপাড়ার একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। গত রোববার সকাল ৭টার দিকে কোম্পানির কাজের জন্য মোস্তাফিজুর বাসা থেকে বের হন। দুপুর ২টার দিকে শিমুল মোবাইল ফোন করলে মোস্তাফিজুর তাকে জানিয়ে ছিলেন যে, তিনি ঝিনাইদহে রয়েছেন। পরবর্তীতে শিমুল তার ছোটভাইয়ের স্ত্রীর কাছে ফোন দিয়ে জানতে পারেন, মোস্তাফিজুর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাসায় ফিরে না আসায় শিমুল ও তার ছোটভাইয়ের স্ত্রী মোবাইল ফোন করার চেষ্টা করলে মোস্তাফিজুরের ফোন বন্ধ পান। এরপর থেকে তারা সকলে মোস্তাফিজুরের সন্ধান করতে থাকেন। পরদিন সকাল ৮টার দিকে মোস্তাফিজুরের সহকর্মী রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাদেরকে জানান যে, যশোরের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তার ভাইকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে মোস্তাফিজুর হাসপাতালে রয়েছেন।
এ খবর পেয়ে শিমুল এবং মোস্তাফিজের স্ত্রী ও শ্বশুর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। জরুরি বিভাগ থেকে জানতে পারেন, মোস্তাফিজুর নামে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন। তার লাশ মর্গে রয়েছে। পরে মর্গে গিয়ে তারা শনাক্ত করেন।
এ ঘটনার পর শিমুল স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, ইমরান নামে একজনের সাথে মোস্তাফিজুরের কোম্পানির টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার বিকেলে ইমরান কৌশলে মোস্তাফিজুরকে যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্টে ডেকে নিয়ে ইজিবাইকের ভেতরে খুন করেছেন।
স্বজনদের একটি সূত্র জানায়, মোস্তাফিজুরের সাথে তার সহকর্মী রবিউল ছিলেন। ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার বাসায় ফেরার পথে তারা যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্টে বাস থেকে নেমে একটি হোটেলে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ইমরানের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা হোটেল থেকে মোস্তাফিজুরকে ধরে নিয়ে যায়। ভয়ে সহকর্মী রবিউল সেখান থেকে পালিয়ে যান।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল মোত্তালিব সোমবার থানায় মামলা করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনিছুর রহমান জানান, মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতন আরো ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হচ্ছেন, বিরামপুর কালীতলা এলাকার ইসহাক গাজীর ছেলে ইব্রাহিম, শামীম হোসেনের ছেলে ইমরান, আসলাম হোসেনের ছেলে সুজন হোসেন, মিঠুর ছেলে আলামিন, মৃত অনিল মন্ডলের ছেলে অন্তর মন্ডল ও মৃত শরিফুল ইসলামের ছেলে রাব্বি হাসান।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তিনি শুনেছেন নিহত মোস্তাফিজুর ও আসামি ইমরান এক সময় বগুড়া অঞ্চলে একটি ফিড কোম্পানিতে চাকরি করতেন। টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এরই জের ধরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইমরানকে আটক করা গেলে হত্যার বিষয়ে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ জানায়, আটক অন্তর মন্ডল ও রাব্বি হাসানকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেলে চাঁচড়া চেকপোস্টে ইজিবাইকের ভেতর ছুরিকাঘাতে মোস্তাফিজুর নামে ওই যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বুত্তরা।