বাগেরহাটে বিষমুক্ত সবজি চাষে ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষক জিহাদ হোসেন

0

 

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের কৃষক শেখ জিহাদ হোসেন বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করে সাড়া জাগিয়েছেন। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামের জিহাদ হোসেন তার পরিবারের সকল খরচ মেটান এই সবজি চাষ করে। এবার মাত্র দেড় বিঘা জমিতে হাইব্রিড সুপার সুমি জাতের ঢেঁড়স চাষ করে আশানারুপ ফলন পেয়েছেন। দেড় বিঘা জমিতে ১৫ মেট্রিকটন ঢেঁড়স উৎপাদনের আশা তার।
তবে তিনি শুধু ঢেঁড়স নয়, বেগুন, কাঁকরোল, ডাঁটাশাক, লালশাকসহ নানা সবজি
উৎপাদন করছেন। জিহাদ হোসেন জানান, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্বতিতে নিরাপদ সবজি চাষ করা হয়। যেমন আলোর ফাঁদ, ডালপোতা ফাঁদ, হলুদ পেপার, সাদা পেপার ফাঁদ পাতা হয় সবজি ক্ষেতে। এছাড়া নিমপাতা, বেলপাতা ও মেগনির নির্জাস ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি চাষ করা হয়। যেখানে কোনপ্রকার রাসায়নিক কোনো কিছু ব্যবহার করা হয় না। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে সুস্থ রাখতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করেছি। তবে লাভ কম হলেও তাতেই খুশি। এভাবেই নিরাপদ বিষমুক্ত সবজি খেয়ে মানুষ সুস্থ জীবনযাপন কবরে এমনটাই প্রত্যাশা এই সফল চাষির।
২০০৬ সালে পোশাক কারখানা থেকে চাকরি ছেড়ে বাড়ির পাশে অন্যের জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন
ফলদ বাগান ও সবজি চাষ। তিনি এবার দেড়বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন ঢেঁড়সের চাষ। স্বল্প সময়ে এই ঢেঁড়স চাষ করে বেশ লাভবানও হয়েছেন তিনি। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে ১২০ থেকে ১৩০ কেজি ঢেঁড়স তোলা হয়। নিরাপদ সবজি ঢেঁড়সের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। কোনপ্রকার কীটনাশক ছাড়া ঢেঁড়স চাষে খরচ বেশি হলেও বিষমুক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষক জিহাদ হোসেন। ওই জমিতে ৫৫ হাজার টাকা খরচ করে দুই লাখ টাকা ঢেঁড়স বিক্রি আশা করছেন তিনি।
শ্রমিক সাবেরা খাতুন বলেন, আমরা চার জনে প্রতিদিন এই ক্ষেতে কাজ করি। প্রত্যেকে দৈনিক তিন শ টাকা মজুরি হিসাবে পাচ্ছি। যা দিয়ে সংসার চালাই। আমরা খুব ভাল আছি।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন বলেন,কৃষি
অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে ঢেঁড়স চাষে অবদান রেখেছেন চাষি জিহাদ হোসেন। তবে সরাসরি বাজার করতে পারলে চাষিরা নায্যমুল্যের পাশাপাশি আরও চাষি আগ্রহী হবে বলে জানান জেলার কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা। এর আগে ২০০৮ সালে জিহাদ হোসেন সবজি চাষে অবদান রাখায় সফল চাষি হিসাবে জেলা প্রশাসন থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত হন্।