জননেতা আলমগীর সিদ্দিকীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রগতিশীল বাম আন্দোলনে যশোরের প্রবাদ পুরুষ জননেতা আলমগীর সিদ্দিকীর ৪৫ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৭ সালের ১৭ জুন উত্তরবঙ্গের জেলা শহর নওঁগার একটি আবাসিক হোটেলে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে তার জীবন অবসান হয়। এই সময় তিনি রাজনৈতিক সফরে ছিলেন। আলমগীর সিদ্দিকী ছিলেন এদেশের শোষিত, নিপীড়িত, ভুখানাঙা মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত এক মহান পুরুষ। উনিশশো আটচল্লিশ, বায়ান্ন, চুয়াল্লিশ, ঊনসত্তর, একাত্তর ও পরবর্তিতে সাতাত্তরে তার প্রতিনিয়ত ইস্পাত কঠিন সাংগঠনিক তৎপরতা সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই বাংলার শাশ্বত সংগ্রামের ইতিহাস তাঁকে অমরত্ব প্রদান করেছে। যশোরের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি অতিক্রম করে মিশে গিয়েছিলেন ভুখানাঙা মানুষের মিছিলে। আলমগীর সিদ্দিকীর ছাত্র জীবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলীর দিকে দৃষ্টি দিলে যে দৃশ্য সামনে দৃশ্যমান হয়-তা ১৯৪২ সালের সেই অসহযোগ আন্দোলন, ১৯৪৬ সালের ‘রসিদ আলী’ আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৮ সালে বাঙালি জাতির জাতীয় মুক্তির লড়াই এবং এর সূচনায় ভাষা আন্দোলন। এই সময় যশোরে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগ্রামী পরিষদের তিনি আহ্বায়ক মনানেীত হন। ওই সময়ে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের বাধা এলে ছাত্র পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামে ওই সর্বপ্রথম রক্ত ঝরে। সমসাময়িক সময় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, রিকশা, মোটর, বিড়ি ও প্রেস শ্রমিক সমিতিসমূহ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা সেই সাথে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৪৯ সালে বাংলার মহানায়ক মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার সময় তিনি সংগঠনের জন্য যশোর জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূর্য সৈনিক এবং পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন ও নেতৃত্ব দান। ১৯৬৮-৬৯ এর আয়ুববিরোধী ব্যাপক গণআন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অবিচ্ছেদ্য শরিক জীবন বাজি রেখে কর্মী বাহিনীকে উজ্জীবিত রাখেন। জেলার প্রতিটি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যে নেতার গতিময় সম্পর্ক তিনিই যশোরের আলোকিত বরেণ্য জননেতা আলমগীর সিদ্দিকী। মজলুম জননেতা মওলনা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সুদীর্ঘকালের সংগ্রামী সহকারী আলমগীর সিদ্দিকীকে বাদ দিয়ে প্রগতিশীল আন্দোলন কখনই শুরু করেননি।