যশোরে বিদ্যুতের শক দিয়ে শ্বাসরোধে ছেলেকে হত্যা,পাষ- পিতা আটক,আদালতে স্বীকারোক্তি

0

 

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে বিদ্যুতের শক দিয়ে ও শ্বাসরোধে রুহুল আমিন (১৫) নামে এক কিশোরকে হত্যা করেছেন তার নিজ পিতা নুরুল ইসলাম। গত রোববার গভীর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া পূর্বপাড়ায় এই নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক অশান্তির কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই রাতে আরেক ছেলেকেও হত্যা করতে চেয়েছেন নুরুল ইসলাম। কিন্তু মাদ্রাসায় থাকায় তাকে হত্যা করতে পারেননি।
পুলিশ জানায়, হত্যাকারী নুরুল ইসলাম (৪৫) চাঁদপাড়া পূর্বপাড়ার মৃত জামাত আলী মোল্লার ছেলে। গতকাল সোমবার সকালে তাকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
নিহত রুহুল আমিনের মামা মনিরুজ্জামান জানান, জায়গাজমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভগ্নিপতি নুরুল ইসলাম গত রোববার সকালে তার বোন শান্তনা বেগমকে মারধর করেন। এ কারণে তার বোন বাঘারপাড়ার পুকুরিয়া গ্রামে পিতার বাড়িতে চলে যান। ওইদিন গভীর রাতে ভগ্নিপতি নুরুল ইসলাম বাড়িতে থাকা বড়ছেলে রুহুল আমিনকে বিদ্যুতের শক দিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ছোটছেলে আল আমিন চাঁদপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদ ও মাদ্রাসায় লেখাপাড়া করে। রুহুল আমিনকে হত্যার পর আল আমিনকে হত্যার জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে আনতে ওই মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম আল আমিনকে বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেননি। এ সময় নুরুল ইসলাম ওই শিক্ষককে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন,‘আমার বড় ছেলেকে হত্যা করেছি। ছোট ছেলেকেও মেরে ফেলবো।’ তিনি বলেন, রুহুল আমিনকে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার ভোরে চাঁদপুর পূর্বপাড়ায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। বাইরে একাকী তার ভগ্নিপতি বসে আছেন। তাকে দেখামাত্র মারতে তেড়ে আসেন। পরে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে নুরুল ইসলামকে আটক করে। এরপর পুলিশ নিহত রুহুল আমিনের লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত রুহুল আমিনের মা শান্তনা বেগম জানান, তার স্বামী নুরুল ইসলামের ৪ বিঘা জমি ছিলো। বিক্রি করতে করতে এখন ৬ শতক জমি রয়েছে। যে কারণে স্বজনেরা ও স্থানীয় লোকজন নুরুল ইসলামকে চাপ সৃষ্টি করে ৬ শতক জমি তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামে লিখে দিতে বাধ্য করেছেন। ফলে জমি বিক্রি করতে না পারায় ক্ষিপ্ত ছিলেন তার স্বামী। পরিবারে প্রায় অশান্তি সৃষ্টি করতেন। তাকে মারধর করা হতো। গত রোববার সকালে তাকে ফের মারধর করা হয়, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিলো। যে কারণে ভয় পেয়ে পালিয়ে পিতার বাড়িতে চলে যান। এরপর ওই রাতেই তার বড়ছেলে রুহুল আমিনকে বিদ্যুতের শক দিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন নুরুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, হত্যার ঘটনায় নিহতের মা শান্তনা বেগম সোমবার কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আটক নুরুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার ছেলে রুহুল আমিন লেদে কাজ করে। সে সবসময় আমাকে গালিগালাজ করে। প্রায় বকাঝকা করে। আমি আলসারের রুগি। মেজাজ খারাপ থাকে। এদিন (রোববার) রাত ১২টার পর সে না ঘুুমিয়ে আমাকে গালি দিতে থাকে। তাই রেগে গিয়ে মটরের তার খুলে ছেলেকে কারেন্টের শক দিই। সে চিল্লায় ওঠে। এতে আরো রাগ হয়। পরে গলা টিপে ধরি। পেটের ওপর বসে গলা টিপে রাখি। আস্তে আস্তে ও (ছেলে) মারা যায়। এখন আমার খারাপ লাগছে।’