পিছিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষা

0

পিয়াস সরকার॥ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হবে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক। বিশাল এই নিয়োগ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এপ্রিলে পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি সময়সূচি। ১লা এপ্রিলে পরীক্ষা শুরুর কথা বলা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। পরে ৮ই এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর কথা বলা হলেও সেটিও পিছিয়ে যায়। কবে থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে তা চূড়ান্ত করতে পারেনি মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আসছে রমজানে পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে জটিলতা থাকায় ঈদের আগে পরীক্ষা নেয়া নাও হতে পারে। নিয়োগপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমাতে সংসদ সদস্যরা জেলা পর্যায়ে পরীক্ষা নিতে সুপারিশ করেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনকে। এরই প্রেক্ষিতে ২১শে মার্চ জাকির হোসেন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদ আছে ৩২ হাজার ৫৭৭টি। পরীক্ষার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু করোনা মহামারির জন্য এই পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। এই সময়ে অবসরে গেছেন আরও ১০ হাজার শিক্ষক। এই চাকরিতে বেতন দেয়া হবে ১৩তম গ্রেড স্কেলে। ফলে এবারের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হচ্ছেন। নিয়োগ পরীক্ষা জেলা পর্যায়ে না নেয়ার দাবিতে ক’দিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। ডিপিই’র সামনে, জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে আন্দোলন ও মানববন্ধন।
বুধবারও রাজশাহীতে হয়েছে মানববন্ধন। এতে অংশ নেয়া শিবলী ইসলাম নামে এক চাকরি প্রত্যাশী বলেন, আজ যখন আমরা জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তখন দেখেছি পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে। পরীক্ষা শুরুর পর অনেক প্রার্থী পরীক্ষা কক্ষে ঢুকে পরীক্ষা দিয়েছে। অনেক সময় পরীক্ষাকেন্দ্র দখল করার ঘটনাও ঘটেছে। আমরা এরকম আর কোনো কিছু চাই না। স্বচ্ছভাবে নিয়োগ চাই।শম্পা রায় বলেন, জেলা পর্যায়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবে। সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে দুর্নীতিবাজরা অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিবে। এ জন্য জেলা পর্যায়ে পরীক্ষা না নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় দুর্নীতিমুক্তভাবে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। খায়রুল ইসলাম নামে এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাটি দুর্নীতিমুক্তভাবে নেয়ার জন্য অধিদপ্তর কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় নেয়ার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কিন্তু কুচক্রী মহলের চাপে অধিদপ্তর জেলায় পরীক্ষা নেয়ার জন্য নতুন করে ভাবছে। যারা জেলা পর্যায়ে পরীক্ষা নেয়ার জন্য অধিদপ্তরকে চাপ দিচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য সৎ নয়। এ ছাড়াও তারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, জেলা পর্যায়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার খবর আমাদের চরমভাবে হতাশ করেছে। কারণ জেলা পর্যায়ে পরীক্ষা নেয়ার অতীত রেকর্ড ভালো নয়। বিগত সময়ে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, প্রক্সিসহ নানা অনিয়ম ঘটেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে সেখানে ভয়াবহ দুর্নীতি হতে পারে। বৃহৎ এই নিয়োগ পরীক্ষা চার ধাপে ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল। এই পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন ১৩ লাখ ৯ হাজার প্রার্থী। ডিপিই সূত্রে জানা যায়, এখন কেন্দ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্ধারণ করা হবে পরীক্ষার তারিখ। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা কোথায় হবে এ নিয়ে দোটানায় আছেন তারা। এ ছাড়াও পরীক্ষা ঈদ পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে দুইটি চিঠি। প্রথম চিঠিতে বলা হয়, লিখিত পরীক্ষা আগামী ১, ৮, ১৫, ২২ ও ২৮শে এপ্রিল কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা হবে সকাল ১০টা ও বেলা ৩টায়। অপর চিঠিতে বলা হয়, এই পরীক্ষা হবে ৮, ১৫ ও ২২শে এপ্রিল ও ১৩ই মে। পরীক্ষা বেলা ৩টায়। কিন্তু ডিপিই সূত্রেও জানা যায়, এই পরীক্ষা পিছিয়ে যেতে পারে। রমজানের জন্য এই পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে এটি হতে পারে ঈদের পর। সেক্ষেত্রে পরীক্ষা হতে পারে মে মাসে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত মহাপরিচালক দপ্তর) মো. মোস্তফা ফারুক খান বলেন, লিখিত পরীক্ষা নেয়ার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে সেগুলোর ধারণক্ষমতার তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই তথ্য মেলার পর পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র এবং পরীক্ষার তারিখ জানতে পারবেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে আয়োজন করতে বলবে আমরা সেভাবেই করবো।