ফুল বিক্রি করে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ীরা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে যশোর ও ঝিকরগাছার গদখালি ফুলের বাজার ছিল খুবই চাঙ্গা। দীর্ঘদিন পর যশোরের ফুলের দোকানিরা পর্যাপ্ত ফুল বিক্রি করতে পেরে যেমন খুশি, তেমনি গদখালির চাষি ও ব্যবসায়ীরাও দারুণ খুশি। তবে অন্য বছরের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কমদামে ফুল বিক্রি হয়েছে। যশোর শহরের পৌরপার্ক, দড়াটানা ও চিত্রামোড়সহ বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী, শিশু-বৃৃদ্ধের হাতে ও মাথায় ফুল ছিল। ফুল উপহার দেওয়াটা যেনো এদিনের রীতি। ছোট শিশুর হাতেও এদিন ফুল তুলে দিয়েছেন অনেক মা-বাবা।
গতকাল ছিল ১লা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব। এদিনে পালিত হয় বিশ্বভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে। যশোর শহরের স্থায়ী ফুলের দোকানের পাশাপাশি এদিন বিভিন্ন স্থানে ফুলের অস্থায়ী পশরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। জেলখানা মোড়, দড়াটানা মোড়, খাজুরা স্ট্যান্ড, পৌরপার্কের অন্তত ৮টি স্থানে, এর আশেপাশের গেটে সিভিল কোর্টের মোড়ে ফুল বিক্রি হয়। ফুলের দাম চড়া থাকলেও সাধ্যের মধ্যে ছিল বলে জানান ক্রেতারা। সরেজমিন দেখা যায়, শহরের কৃষ্ণচূড়া ফুলঘরে জিপসী ও পলিপ্যাক করা একেকটি গোলাপ ৩০ টাকা, প্যাক করা ছাড়া গোলাপ প্রতিটি ২০ থেকে ২৫ টাকা, রঙিন গোলাপ (চায়না রোজ) ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তাজা ফুল দিয়ে তৈরি মেয়েদের মাথার ব্যান্ড একশ থেকে দেড়শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া জারবেরা ১০ থেকে ১৫ টাকা, গ্লাডিওলাস (সাদা) ১০ টাকা, রঙিন ১৫ থেকে ২০ টাকা প্রতি পিচ বিক্রি হয়েছে। চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধাও ছিল ১০ টাকার মধ্যে। ফুল ঘরের রনি জানালেন, গত দু’টো বসন্ত উৎসবে করোনা বিধি নিষেধ বেচাকেনা হয়নি, এবার অনেক ভালো হয়েছে। তিনি আরো জানান, করোনার আগে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে অনেক ফুল বিক্রি হতো। তখন একটি গোলাপ ৫০ টাকায়ও বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। একই এলাকার আরেকটি ফুলের দোকান মালঞ্চ। সেখানে ক্রেতাদের ভিড় দেয়া যায়। ক্রেতারা ফুল কিনে সম্পূর্ণ বলেও জানান। মালঞ্চের কামরুল ইসলাম জানান, সকালের দিকে একটু কম বেচাকেনা হয়েছে, দুপুরের পর বিক্রি বেশি হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ১৩/১৪ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করতে পেরেছেন বলে জানান। ওই দোকানেও গোলাপ জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, প্রায় একই দামে বিক্রি হলেও অপেক্ষাকৃত ভালোমানের ফুলের বেশি ছিল। তবে, পৌরপার্কে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হতে দেখা যায়।
এদিকে, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, গদখালিতে গতকালের বাজার একটু নরম ছিল। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৫ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ফুলের দাম বেশি থাকলেও গতকাল পাইকারী বাজারে প্রতিটি গোলাপ ১৫/১৬ টাকা, চায়না গোলাপ ২৫/৩০ টাকা, গ্লাডিওলাস সাদা-৫/৭ টাকা, রঙিন ১০/১২ টাকা জারবেরা ৮/১০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ২/৩ টাকা, জিপসি প্রতি আঁটি ৫০ টাকা, গাঁদা প্রতি হাজার ৮শ থেকে হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লিনিয়াম প্রতিটি দেড়শ’ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। আব্দুর রহিম জানান, চাষি ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য আরও বেশি ছিল, তারপরেও ফেব্রুয়ারিতে ফুলের দাম পেয়ে তারা খুবই খুশি।