ভোট পর্যবেক্ষণ কূটনীতিকদের

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ অনেকটা নীরবে-নিঃশব্দে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকরা। জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারকে সকাল-বিকাল উত্তর এবং দক্ষিণের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরতে দেখা গেছে। তবে তারা নির্বাচনের পরিবেশ বা ভোট গ্রহণ বিষয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যেখানেই তাদের পেয়েছেন ঘিরে ধরেছেন, কথা বলার এবং প্রতিক্রিয়া নেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পোড় খাওয়া কূটনীতিকদ্বয় ‘দিনটি সুন্দর’ বা ‘নো কমেন্ট’ বলে এড়িয়ে গেছেন। কূটনৈতিক সূত্র এবং ভোটের মাঠ চষে বেড়ানো প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন- সরকারের নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কড়া সমালোচনার কারণে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি প্রাপ্ত দূতাবাসের বাংলাদেশি স্টাফরা এবার পর্যবেক্ষণ থেকে বিরত ছিলেন। ফলে, লোকাল স্টাফদের ছাড়াই কূটনীতিকরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরেছেন। দিনের শুরুতে তেজগাঁও এবং রামপুরার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
প্রথমে তিনি রামপুরার একরামুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। বেশ কিছু সময় তিনি কেন্দ্রের ভেতরে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে যান তেজগাঁও মনু মিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। ওই কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি কিছুক্ষণ স্কুলের খেলার মাঠে দাঁড়ান। এ সময় তিনি রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সাংবাদিকরা তার প্রতিক্রিয়া নিতে চাইলে তিনি ওই অবস্থায়ই ‘আজকের দিনটা খুব সুন্দর’ বলে মন্তব্য করেন। পরে পাল্টা প্রশ্নে স্কুলটি কোন সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা সাংবাদিকদের কাছেই জানতে চান তিনি। এদিকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে ভোট পর্যবেক্ষণ করতে যান বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। সার্বিক পরিস্থিতি কেমন দেখছেন সে সম্পর্কে জানতে চান। বৃটিশ দূত গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান এই বলে যে, ‘আমরা শুধু পর্যবেক্ষণ করছি, আজ কোনো মন্তব্য নয়।
দুপুরে তিনি মোহাম্মদপুরের একটি কেন্দ্রে এবং বিকালে পুরান ঢাকায় বকশিবাজারস্থ বদরুন্নেছা সরকারী কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে মানবজমিনের তরফে তার প্রতিক্রিয়া নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি নো কমেন্ট বলে এড়িয়ে যান। অতীতের রেওয়াজ মতে, এবারও দুই সিটির নির্বাচনে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের মোট ৭৪ জন দেশি-বিদেশী কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসাবে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। তার মধ্যে ৪৬ জন বিদেশী এবং ২৮ জন বাংলাদেশী নাগরিক ছিলেন। মার্কিন দূতাবাসের সর্বোচ্চ ১৮ জন বিদেশী এবং ৯ জন বাংলাদেশী নাগরিকসহ মোট ২৭ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন ওই তালিকায়। কিন্তু সরকারের তরফে শেষ সময়ে এসে দূতাবাসগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশী নাগরিকদের পর্যবেক্ষণ বারণ করে সরকার। ইসির অনুমতি সংক্রান্ত কার্ড পাওয়া দূতাবাসের লোকাল স্টাফদের যেনো ভোট পর্যবেক্ষণে না পাঠানো হয় সেটি নিশ্চিত করতে সব মিশনে নোট ভারবাল পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন ও তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বিদেশী মিশনগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশী নাগরিকদের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসাবে অন্তর্ভূক্তির জন্য মিশনসমুহ এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটাকে আইনের বিচ্যুতি হিসাবে আখ্যায়িত করে মিশনগুলোকে কোড অব কন্ডাক্ট অনুসরনের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নিয়ে গতকাল সর্বশেষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি এ জন্য নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করেন।