যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ, বগুড়ায় এনসিপি নেতাকে টিটিসি থেকে বহিষ্কার

0
বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ভবন; যেখানে নারী প্রশিক্ষণার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক কমিটির সদস্য আলী আজম সাব্বিরকে আজ সোমবার কোর্স থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) এক নারী প্রশিক্ষণার্থীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে প্রশিক্ষণ কোর্স থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ সোমবার তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয় টিটিসি কর্তৃপক্ষ।

বহিষ্কৃত আলী আজম সাব্বির শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দহিলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক কমিটির সদস্য এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি। তিনি টিটিসির রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (আরএসি) ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

টিটিসির অধ্যক্ষ এস এম ইমদাদুল হকের সই করা বহিষ্কারাদেশ আজ প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয়। এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং নারী প্রশিক্ষণার্থীদের হয়রানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একাডেমিক কাউন্সিল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও টিটিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান শাহীন জানান, অভিযুক্ত প্রশিক্ষণার্থী নিজেই অভিযোগের বিষয়ে দোষ স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এর আগে গত ২৪ মে টিটিসিতে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে আলী আজম সাব্বিরকে অফিসকক্ষে জুতাপেটা করেন ওই নারী প্রশিক্ষণার্থী। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আলী আজমকে ওই প্রশিক্ষণার্থীর কাছে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। ওই দিনই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক জানান, নারী প্রশিক্ষণার্থীদের উত্ত্যক্ত করা, হয়রানি করা এবং আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনসিপি। বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এম এস এ মাহমুদ জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আলী আজমকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।