মির্জা আব্বাস সংসদে এলেন হুইলচেয়ারে, দিলেন আবেগঘন বক্তৃতা

0
প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুইলচেয়ারে করে জাতীয় সংসদে যোগ দিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। রাজনীতি মানুষের সেবার জন্য উল্লেখ করে সবার দোয়া চান তিনি।। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুইলচেয়ারে চড়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি জানিয়ে সংসদে উপস্থিত হয়ে এক আবেগঘন লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু সহকর্মীদের গভীর ভালোবাসা ও টানের কারণেই চিকিৎসার মাঝপথেই তাঁকে সংসদে আসতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মির্জা আব্বাস যখন তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করছিলেন, তখন পুরো অধিবেশন কক্ষে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি নিজের নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসতে পারেননি। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের চলাচলের পথের মাঝখানে হুইলচেয়ারে বসেই বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় পাশের আসন থেকে দলীয় সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান তাঁকে সহযোগিতা করেন। মির্জা আব্বাসের এই মানবিক দৃশ্য ও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্যকেই আবেগতাড়িত হতে দেখা যায়।

বক্তব্যে মির্জা আব্বাস জানান, নির্বাচনের পরপরই এক রাজনৈতিক সভায় তিনি গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং বর্তমানেও তিনি পুনর্বাসন চিকিৎসায় (রিহ্যাবে) রয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এতদিন সংসদের অধিবেশনে নিয়মিত অংশ নিতে পারেননি বলে জানান তিনি।

চিকিৎসার এই কঠিন সময়ে পরম করুণাময়ের প্রতি শুকরিয়া আদায় করে ক্ষমতাসীন দলের এই প্রবীণ নেতা বলেন, ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে আবার জাতীয় সংসদের কক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে কথা বলতে পারাটা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত। এই সময়ে যাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন ও পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

অসুস্থতাকালীন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও স্পিকারের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করে মির্জা আব্বাস বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন। বিশেষ করে স্পিকার নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে তাঁকে দেখে এসেছেন। তিনি বলেন, “একজন সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকারের এই মানবিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”

সংসদে ফিরে রাজনীতি ও জনসেবা নিয়ে নিজের গভীর উপলব্ধির কথা ব্যক্ত করে মির্জা আব্বাস বলেন, রাজনীতি শুধু মতপার্থক্য প্রকাশের জায়গা নয়, এটি মানুষের সেবার জন্য। তিনি আরও যুক্ত করেন, “আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য।” জীবনের বাকি সময়টুকু নিজ নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের জন্য নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি।