দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই বোয়িং কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে: মাহদী আমিন

0
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং কেনাকাটায় দেশের স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সফল যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর শেষে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরকারের অবস্থান ও সফরের অর্জনসমূহ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই আমেরিকা থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সফর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজেদের স্বার্থ ও অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করেছে।

দেশ পরিচালনায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও জানান, সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপকর্ম করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সরকার তা কঠোর হাতে দমন করবে।

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, সাধারণ পরিষদের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী দেশের ও জনগণের বক্তব্য অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকতার সঙ্গে সাদরে গ্রহণ করেছেন।

এই ব্রিফিংয়ের সময় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। তিনি উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত ভিড় বা অযাচিত জমায়েত প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করছেন না, যা দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা নির্দেশ করে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই পাঁচ দিনের নিবিড় সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যতের দিনবদলের চিত্র তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরে পৌঁছালে জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।