ট্রাম্পের চীন সফরের পরপরই বেইজিং যাচ্ছেন পুতিন, লক্ষ্য কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার

0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার পরপরই আগামী মঙ্গলবার বেইজিং যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন; শির সঙ্গে বৈঠকে যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিনদিনের চীন সফর শেষ হওয়ার পরপরই আগামী মঙ্গলবার বেইজিং যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফরে চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সহযোগিতা ও সামগ্রিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা করবেন তিনি।

ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুতিন ও শি প্রধান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমস্যাগুলো নিয়ে মত বিনিময় করবেন এবং আলোচনা শেষে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবেন। সফরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন পুতিন, যেখানে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

‘চুক্তিতে আনন্দিত’ মস্কো:

গত শুক্রবার তিনদিনের চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান ট্রাম্প। সফরে তিনি দাবি করেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে বেশ কিছু বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোয়িংয়ের ২০০টি জেট এবং মার্কিন তেল ও সয়াবিন কেনার ব্যাপারে চীনের প্রতিশ্রুতি। তবে চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি এবং চীনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তির কথা স্বীকার করেনি।

এই চীন-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক আরো বেশি উষ্ণ। ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানের সময় ল্যাভরভ বলেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে যেসব চুক্তি হয়েছে বা হতে যাচ্ছে, সেগুলো যদি চীনা বন্ধুদের স্বার্থে হয়, তবে তা মস্কোর জন্য আনন্দের বিষয়।

বর্তমানে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির শীর্ষ ক্রেতা চীন। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনিশ্চয়তা:

ট্রাম্প চীনে পৌঁছানোর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে আলোচনার অনুরোধ করেছিলেন। তবে শি ও ট্রাম্পের দুই দফা বৈঠকেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি সামনে আসেনি। মস্কো জানিয়েছে, কিয়েভ যদি ক্রেমলিনের সর্বোচ্চ দাবিগুলো না মানে, তবে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কোনো আলোচনায় বসবে না তারা।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীন নিয়মিত আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসলেও এখনো রুশ সেনা অভিযানের নিন্দা জানায়নি। বরং নিজেদের নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করছে বেইজিং। একই সঙ্গে রাশিয়ায় কোনো অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টিও অস্বীকার করেছে তারা। পালটা বেইজিং দাবি করেছে, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে পশ্চিমা দেশগুলোই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত দীর্ঘ করছে।