জাহাজ থেকে সাগরে ফেলে হত্যা ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

0

ফকিরহাট (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ ফকিরহাটে জাহাজের মাস্টার মোস্তফা কামাল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও গ্রামবাসী। রোববার বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের টাউন নওয়াপাড়া গোলচত্বর মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এর আগে নিহত মোস্তফা কামালের মরদেহ রোববার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে হাতিয়া নৌ-পুলিশ সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। তার তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে। তিনি উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে।

নিহত মোস্তফা কামালের পরিবারের অভিযোগ, জাহাজের চিফ মাস্টার রমজান মাহমুদ (খোকন) ও তার অনুগত সহকর্মীরা মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মানববন্ধন থেকে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

নিহতের স্ত্রী ফারহানা আক্তার জানান, তার স্বামী যে জাহাজে চাকরি করেন সেখানে কর্মরত বেশিরভাগ সদস্য চিফ মাস্টার রমজান মাহমুদ খোকনের নিকট আত্মীয়। মোস্তফা কামাল যে পদে চাকরি করতেন সেই পদে চিফ মাস্টার রমজান মাহমুদ খোকনের আরেকজন আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছিলো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। জাহাজের চিফ মাস্টার সব সময় নিহত মোস্তফা কামালের সাথে দুর্ব্যাবহার করতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে, গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে এমটি মার্কেন্টাইল ২১ নামের (অয়েল ট্যাংকার) জাহাজটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। রাতে হাতিয়া পৌঁছানোর পর পরিবারের সাথে শেষবারের মতো কথা হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ওই জাহাজের কর্তৃপক্ষ ও লাইটারেজ শ্রমিক সংগঠনকে জানানো হয়। কিন্তু তার খোঁজ মেলেনি। রোববার বেলা ১১টায় তার মরদেহ সাগরে ভাসমান অবস্থায় হাতিয়া নৌ পুলিশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। একই সাথে নিহত মোস্তফা কামালের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।

হাতিয়া নৌ-পুলিশের বরাত দিয়ে ফারহানা আক্তার জানান, মার্কেন্টাইল-২১ জাহাজের অন্যান্য স্টাফদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মোস্তফা কামালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ ঘটনায় মার্কেন্টাইল-২১ জাহাজ কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।