পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ নিহত ২৮

0
পাকিস্তানের পেশোয়ারে আল খায়ের স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার পর উদ্ধারকারীদের তৎপরতা ।। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘আল খায়ের’ নামের একটি বেসরকারি স্কুলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে নিহতদের মধ্যে ২৭ জনই কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ডন’-এর এক প্রতিবেদনে লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম ২৮ জনের প্রাণহানির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে জানান, আল খায়ের স্কুলের ছাদটি হঠাৎ ধসে পড়লে সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনাটি ঘটার সময় শিক্ষার্থীরা যার যার শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিল।

পরবর্তীতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির নিশ্চিত করেন যে, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় উদ্ধারকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। এর আগে অবশ্য লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, হতাহতদের জরুরি চিকিৎসার সুবিধার্থে হাসপাতালে তাৎক্ষণিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

পাকিস্তানের পেশোয়ারে বেসরকারি আল খায়ের স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষকসহ মোট ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৯ জন।। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে পেশোয়ারের স্কুলে ছাদ ধসে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। শোক প্রকাশের পাশাপাশি তিনি এ ঘটনার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন আহ্বান করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানে ভবন কিংবা ছাদ ধসে পড়ার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেশটির দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণের অবাধ ব্যবহারকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগেও একাধিক এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। গত জুলাই মাসে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একটি অংশ ধসে পড়লে ৩ থেকে ১৩ বছর বয়সী তিন শিশুর মৃত্যু হয়। ঠিক একই মাসে লাহোরের বাঘবানপুরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়।

চলতি বছরের জুন মাসেও লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি প্রাইভেট কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এর দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজী খান এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের ক্লাসরুমের ছাদ ধসে পড়ে চার শিশু নিহত ও ২০ জন আহত হয়।