চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

0
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আনোয়ার হোসেন বুকে ব্যথা অনুভব করায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।। ছবি: সংগৃহীত

রিফাত রহমান,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ॥ চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। আনোয়ার হোসেন (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান। এর আগে রাত ১১টা ৫ মিনিটে বুকে ব্যথা অনুভব করায় কারাগার থেকে তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

আনোয়ার হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র স্কুলপাড়ার মরহুম আমিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি কয়েদি নম্বর ৪০৭০/এ হিসেবে কারাগারে ছিলেন এবং ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগারে আসেন।

কারাগার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উচ্চ রক্তচাপ (এইচটিএন) ও ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে (আইএইচডি) আক্রান্ত আনোয়ার হোসেন গত ১৭ অক্টোবর থেকে কারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২১ অক্টোবর রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুসনদে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম (এসিএস), ডায়াবেটিস মেলিটাস (ডিএম), ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা (বি.অ্যাজমা) ও উচ্চ রক্তচাপের (এইচটিএন) উল্লেখ রয়েছে।

কারাগার সূত্রে আরও জানা যায়, পেনাল কোডের ৩২৪ ধারার একটি মামলায় আদালতের বিচারক আনোয়ার হোসেনকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে আসেন। বিধি অনুযায়ী, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আনোয়ার হোসেন একটি মারামারি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ৩০ সেপ্টেম্বর জেলখানায় আসেন। বুধবার রাতে উনি খুব অস্থিরতা অনুভব করেন। এ সময় সাথে সাথে তাঁকে কারাগারের গাড়িতে করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি এক ঘণ্টা পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করার পর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর বিধি মোতাবেক মরদেহটি দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।