অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ: ঢাকায় পলাতক ব্যাংক কর্মকর্তা সোহাগ আটক

0
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের ২৫৫ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে থাকা ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগকে ঢাকার মিরপুর থেকে আটক করেছে যৌথ পুলিশ দল।। ছবি: সংগৃহীত

অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে পলাতক ক্যাশ কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে ঢাকার মিরপুর-১-এর পাইকপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও শ্রীনগর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কামরান হাসান। তিনি জানান, শরিফুজ্জামান মিরপুর-১ এলাকায় তাঁর বোনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করার পর রাতেই মুন্সিগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। আজ তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

শরিফুজ্জামান সোহাগ শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকের ভুয়া বা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত জমা স্লিপ ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শাখা ব্যবস্থাপক মো. সরফুদ্দিন। পরে পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠায়।

আমরা একজনকে অভিযুক্ত করে জিডি করেছি।
একই সঙ্গে আত্মসাতের ঘটনায়
ব্যাংকের আরও কেউ জড়িত কি না এবং
অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মিজানুর রহমান, অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ জেলার
শাখাগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা

এদিকে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনে শ্রীনগর শাখায় ২৫৫ জন ভুক্তভোগী গ্রাহক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। যার মধ্যে রোববার ১৮৪ জন, সোমবার ৪৬ জন এবং মঙ্গলবার ২৫ জন অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, আত্মসাৎ হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ জেলার শাখাগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, একজনকে অভিযুক্ত করে থানায় জিডি করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে ব্যাংকের অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং আত্মসাৎকৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, তা ব্যাংকের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক ইসমাঈল হোসেন জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জিডিটি রোববার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কমিশন থেকে পরবর্তী অনুসন্ধান বা তদন্তের যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।