স্থানীয় নির্বাচনে চোখ বিএনপির; চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী, লক্ষ্য সংগঠনে গতি

0
গত ২ মে সিলেটে বিএনপির কর্মীসভায় তারেক রহমান। স্থানীয় নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাতে তৎপর এখন বিএনপি ।। ছবি: সংগৃহীত

দেশের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা কাটিয়ে গতি ফেরাতে এবং তৃণমূলের নেতৃত্ব সুসংহত করতে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় একই পদে একাধিক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং স্থানীয় কোন্দল ও সহিংসতা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে স্পষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকার ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আসন্ন জাতীয় বাজেটে এই নির্বাচনের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। প্রথমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগে ইউপি নির্বাচন শুরু হতে পারে, এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভাসহ অন্যান্য স্তরে ভোট হবে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যেগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলোতে ডিসেম্বরের মধ্যে আগে ভোট হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিতর্কিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করায় বর্তমানে প্রশাসক ও সচিবদের মাধ্যমে কাজ চলছে। এতে অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় দ্রুত নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে সরকার।

দলীয় প্রতীকহীন এই ভোটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত ৯ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপি এবং এর তিন সহযোগী সংগঠন (যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল)-এর জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই ছিল দলের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক বৈঠক। সভায় তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “আগের সরকারের মতো প্রশাসনিক প্রভাব বা দলীয় সুবিধা দিয়ে কাউকে জিতিয়ে আনার সুযোগ নেই। কাজ করেই নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।” নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করতে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কারও দলীয় বা ব্যক্তিগত পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর এই ভোট মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য এক বড় পরীক্ষা। সংসদ নির্বাচনের পর নেতা-কর্মীদের মাঝে তৈরি হওয়া শিথিলতা দূর করতে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা ও মহানগরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। মূলত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ঠেকানো, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং একক প্রার্থী নিশ্চিত—এই তিন চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিয়েই সংগঠনে গতি ফেরাতে চায় বিএনপি।