চৌগাছায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলো মাঠে লাখ লাখ টাকার কাঠ নষ্ট হচ্ছে

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলো মাঠে লাখ লাখ টাকার মূল্যবান কাঠ রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। অথচ এগুলো বিক্রির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত কাঠগুলো বিক্রি করা না হলে সবই নষ্ট হয়ে যাবে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চৌগাছার সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিকের উত্তর পাশে আর মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদের পাড়ে উঁচু ঢিবির ওপর ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে ডাকবাংলো। অত্যন্ত মনোরম পারিবেশে অবস্থিত ডাকবাংলোর রয়েছে ছোট একটি মাঠ। পাশেই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন কেয়ারটেকার আব্দুল মমিন। এক সময় শিশু কিশোরদের দৌড়াদৌড়ি ছুটোছুটির স্থানটি এখন অনেকটাই অবরুদ্ধ। বিশেষ করে ডাকবাংলোর মাঠের পুরোটাই জুড়ে পড়ে আছে বিশাল বিশাল কাঠের গুঁড়ি। মাসের পর মাস বড় বড় গাছের গুঁড়ি থেকে শুরু করে ছোটখাটো গাছের গুঁড়ি মাটিতে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। খরা মৌসুমে দিনের পর দিন রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার বর্ষায় ভিজে হচ্ছে একাকার। এছাড়া অধিকাংশ কাঠের গুড়িতে বেঁধেছে উইপোকা বাসা। এছাড়া সাপ পোকা মাকড়ের জন্য তৈরি হয়েছে নিরাপদ বাসস্থান। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মাঠ দিয়ে কপোতাক্ষ নদে নিয়মিত যাতায়াত করতেন, কিন্তু এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় চৌগাছায় ব্যাপকভাবে সরকারি বেসরকারি গাছপালার ক্ষতি হয়। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়কের ওপর। সড়কের পাশের গাছপালা জেলা পরিষদের হওয়ার কারণে সমুদয় গাছ কেটে ডাকবাংলো মাঠে জড়ো করা হয়। আম্পানের পর কেটে গেছে দু বছর কিন্তু এখনও গাছের গুড়িগুলো ডাকবাংলো মাঠে পড়েই আছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে সরকারি সড়কের পাশের গাছ কাটা হয়। ওইসব গাছও এনে জড়ো করা হয় ডাকবাংলোর মাঠে। দূর হতে দেখলে অনেকেই মনে করতে পারেন ডাকবাংলো মাঠ যেন স মিলের মাঠে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবু, মফিজুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, সনেক সরদার, শিল্পি সরদার বলেন, ‘ডাকবাংলোর মাঠে পচে গলে নষ্ট হচ্ছে সরকারি গাছ। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ নেই। দামি এসব কাঠ উইপোকায় খেয়ে ফেলছে, কাঠের ফাঁকে ফাঁকে বাসা বেধেছে সাপ আর ব্যাঙ। আমাদের ছেলে মেয়ে এমনকি আমরা নিজেরাও ওই মাঠ দিয়ে নদে নিয়মিত যাতায়াত করতাম, কিন্তু এখন বন্ধ হয়ে গেছে। চোখের সামনে লাখ টাকার সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেখে সকলেরই কষ্ট লাগে।’
ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার আব্দুল মমিন বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে টেন্ডার না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বহু কাঠ নষ্ট হয়েছে। আমি বারবার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকাকালীন মাসিক সভায় একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, কিন্তু সমাধান হয়নি।’ দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে সমুদয় কাঠ বিক্রি করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।