আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক

0

খুলনা ব্যুরো ॥ ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের অব্যাহত প্রতিবাদ ও দাবির মুখে টানা ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. কামরুজ্জামান পদত্যাগ করেছেন। গত বুধবার বিকেলে হাসপাতালের উপ তত্ত্বাবধায়ক ডা. অনুপ কুমার দে’র হাতে দায়িত্ব দিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদ আঁকড়ে ছিলেন ডা. মো. কামরুজ্জামান। সুপার হিসেবে হাসপাতালের সার্বিক দেখভালের কথা থাকলেও তিনি প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা শেষে দুপুরে শিশু হাসপাতালে আসতেন। তার আওতাধীন ওয়ার্ডগুলো ভিজিট না করে গুরুতর রোগীদের তার চেম্বারে আসতে বাধ্য করতেন। নাকে অক্সিজেনের নল, হাতে স্যালাইনের পাইপ টানিয়ে ছোট ছোট শিশুদের অমানবিকভাবে আনা হতো সেখানে। এছাড়া দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ প্রমোশন ও ইনক্রিমেন্ট বন্ধ ছিল। হাসপাতালের প্রশাসন বিভাগ তত্ত্বাবধায়কের সাথে যোগসাজশে এসব করতো বলে অভিযোগ তাদের।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ ডাক্তার ও স্টাফরা বঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করলে শিশু হাসপাতালের পরিচালনা কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন হয়। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। এরপর ডা. কামরুজ্জামানকে এক মাসের জন্য ছুটিতে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠলে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
জানতে চাইলে ডা. কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। আমাকে ছুটি নিতে বলা হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠান আমার নিজের হাতে গড়া। আমি যাদেরকে তৈরি করেছিলাম তাদের মধ্যে গুটিকয়েক ডাক্তার বিরোধিতা করেছে। হাসপাতাল থেকে আমি কোনো বেতন ভাতা নেইনি। সামান্য কিছু টাকা অনারিয়াম হিসেবে পেয়েছি। প্রমোশন ও ইনক্রিমেন্ট বন্ধে আমার ভূমিকা ছিল না।