এআই সম্মেলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করল মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ

0
রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে অনুষ্ঠিত জেনেসিস এআই কনফারেন্স ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশন।। ছবি: সংগৃহীত
তথ্য প্রযুক্তি ডেক্স ।। বাংলাদেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দৌড়ে শীর্ষস্থানে নিতে এবং ১০ লাখ নাগরিককে ‘এআই-নেটিভ’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল ‘মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ’। শুক্রবার ন্যাশনাল ‘এআই বিল্ড-এ-থন’ এবং শনিবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে অনুষ্ঠিত ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স ২০২৬’-এর মাধ্যমে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা এআই ভবিষ্যতের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেন। আগামী এক বছরের মধ্যে এআই প্রযুক্তির সুফল দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আত্মপ্রকাশ ও উদ্বোধনী প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা ১০ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ’। এ উপলক্ষে আয়োজিত ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনই জাতীয় উন্নয়নের বাধা কাটানোর প্রধান শক্তি। বিশেষ করে কৃষি ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার আমাদের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিতে পারে। ইউএপি উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান এআইকে মানুষের প্রতিস্থাপন নয়, বরং একটি শক্তিশালী ‘সাপোর্টিং টুল’ হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

ডিজিটাল অবকাঠামো ও দক্ষতা উন্নয়ন:
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারি সম্মেলনে জানান, ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রাণ হলো উচ্চমাত্রার কানেকটিভিটি। অন্যদিকে, দক্ষতা উন্নয়ন প্রসঙ্গে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবু বকর হানিপ বলেন, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দক্ষতাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রোগ্রাম। স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় বলেন, “এআই ব্যবহার করা মানুষই এখন থেকে এআই ব্যবহার না করা মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে।”

এআই অ্যাকশন চার্টার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
সম্মেলনের শেষভাগে ‘এআই অ্যাকশন চার্টার’ ঘোষণা করেন মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বার জুনায়েদ কাজী। তিনি আগামী এক বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন:

আগামী ৩০ দিন: এআই নীতিমালা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং শিক্ষা খাতের রূপরেখা প্রণয়ন।
আগামী ৬০ দিন: প্রণীত চার্টারের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু।
আগামী ৯০ দিন: এআই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ দেখানোর জন্য বিশেষ প্রজেক্ট সম্পন্ন করা।
আগামী ১ বছর: সফল প্রকল্পগুলোকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছে দেওয়া।

নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক সমন্বয়:
সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন প্রযুক্তিবিদ আনিস রহমান। তিনি প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও দেশীয় তরুণদের মেধার সমন্বয়ে একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, এসিআইর এমডি আরিফ দৌলা এবং ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এসিআইর এমডি আরিফ দৌলা জানান, ছোট ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এবং এজ কম্পিউটিং ব্যবহার করে স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।