যশোরে জলাতঙ্ক প্রতিষেধকের তীব্র সংকট, হাসপাতাল থেকে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

0
ছবি: লোকসমাজ।

বি এম আসাদ ॥ যশোরে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে শত শত মানুষ আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা সেবায় জরুরি প্রতিষেধক টিকা ‘এআরভি’ (এন্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন) মিলছে না। সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় ভুক্তভোগীরা ফার্মেসিগুলোতে হন্যে হয়ে খুঁজলেও পাচ্ছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ইপিআই কক্ষের সামনে অবৈধভাবে ভ্যাকসিন বিক্রির সময় টিপু সুলতান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না এই মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে টিপু সুলতান হাসপাতালের ইপিআই কক্ষের সামনে বেসরকারি কোম্পানির এআরভি ভ্যাকসিন বিক্রি করছিলেন। আক্রান্ত রোগীদের কাছে প্রতিটি ফাইল ৫২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। তবে ওই ভ্যাকসিন আসল না নকল, তা শনাক্ত করার কোনো উপায় ছিল না।

বিষয়টি দেখে হাসপাতালের টহলরত পুলিশ সদস্য মো. সোহেল রানা তাকে আটক করে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াতের কার্যালয়ে নিয়ে যান। তত্ত্বাবধায়ক তাকে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে সরকারি ভ্যাকসিনের সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে। এরপর নতুন কোনো চালান আসেনি।

ইপিআই সুপারভাইজার মো. নুরুল হক জানান, এই হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ৩৭৫ ভায়াল এআরভি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়, যা দিয়ে প্রায় ২ হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব। সরকারি সরবরাহ না থাকায় গরিব রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। ঠিকমতো প্রতিষেধক নিতে না পারলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেও তিনি জানান।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হুসাইন শাফায়াত জানান, পোষা প্রাণির কামড়ে আক্রান্তদের বেশিরভাগই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য। তবে গরিব রোগীদের জন্য সরকারি ভ্যাকসিনের গুরুত্ব রয়েছে। গত এক মাস ধরে সরবরাহ নেই।

নতুন চালান এলে পুনরায় ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হবে। আপাতত রোগীদের বাইরে থেকেই ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে নিতে হবে।