মৌসুুমে বাড়ছে চালের দাম!

কুয়াশার অজুহাতে বাড়তি সবজি

0
ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ আমন ধানের ভরা মৌসুমে চালের দাম কমার পরিবর্তে বেড়েই চলেছে। এ সপ্তাহেও কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। শুধুমাত্র কুয়াশার দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারে বড় ইলিশের সরবরাহ নেই। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। দাম বাড়ার পর আর কমেনি খামারের মুরগির দাম। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এখন আমন ধানের ভরা মৌসুম। স্বাভাবিকভাবে চালের দাম কমার কথা। কিন্তু যশোরের বড় বাজারে এর চিত্রটা উল্টো। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালে বেড়েছে ৪ টাকা।

চাল ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, পুরোনো চালের সাথে নতুন আমন ধানের চালও মিল মালিক ও মজুদদাররা কিনে মজুত করছেন। এজন্য বাজার অস্থিতিশীল।

রোববার বড় বাজার চালবাজারে বিআর-৬৩ ধানের চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি মানভেদে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৪ থেকে ৬৮ টাকা, বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৬০ টাকায়। হীরা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৪৩ টাকা। বাংলামতি চালে এ সপ্তাহে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮২ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৭৮ থেকে ৮০ টাকা। মিনিকেট চালেও ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৬ টাকা, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৬২ থেকে ৬৪ টাকা। স্বর্ণা চালের কেজিতেও ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৪৮ টাকা। এছাড়া নাজিরশাইল চাল ৮০ টাকা, বিআর-১০ চাল ৫৮ টাকা, বিআর-৪৯ চাল ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যশোর বড় বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার বিশ্বাস লোকসমাজকে জানান, পুরোনো বোরো ধানের চালের মজুত শেষ হয়ে এসেছে। এ কারণে পুরোনো চালের দাম বাড়ছে। সামনের দিনে আরও কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী বৈশাখে বোরো ধানের নতুন চাল না ওঠা পর্যন্ত দাম আর কমার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে চলতি সপ্তাহে বাজারে শীতকালীন সবজির দাম কেজিতে আরও ১০ টাকা বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা কুয়াশা ও শীতের অজুহাতে ভরা মৌসুমেও সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

রোববার বড় বাজারে আসা ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে শীতের সবজির কোনো ঘাটতি নেই অথচ কুয়াশা ও শীতের দোহাই দিয়ে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বড় বাজার এইচ এম এম রোডের খুচরা সবজি বিক্রেতা কৃষ্ণ চন্দ্র দাস জানান, রোববার বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, মুলো ৪০ টাকা ও পালংশাক ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এই সবজিগুলো গত সপ্তাহে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড় এদিন গাজর ৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, বিটকপি ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লাউয়ের দাম। গত সপ্তাহ থেকে দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা।

বড় বাজার কালীবাড়ি মার্কেটের বিক্রেতা বিকাশ শিকদার জানান, লাল আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, তবে ক্রেতা ৬ কেজি একসাথে নিলে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ও কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

বড় বাজার মাছবাজারে বড় ইলিশ মাছের সরবরাহ নেই। আড়তদার পিয়ার মুহাম্মদ জানান, তীব্র শীত আর কুয়াশায় জেলেরা নদী ও সাগরে নামছে না। এ কারণে উপকূল এলাকার মোকামে বড় ইলিশ নেই।

রোববার খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, ৬শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ২৪শ টাকা, ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১১শ টাকা ও ৩টায় ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকা। তাছাড়া বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

খুচরা বিক্রেতা মো. রেজাউল জানান, রোববার আকারভেদে আইড় মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭শ থেকে ১২শ টাকা, গলদা চিংড়ি ৮শ থেকে ১৪শ টাকা, দেশি কৈ ১ হাজার থেকে ১৩শ টাকা, পারসে ৫শ থেকে ১হাজার টাকা, বাইম ৯শ থেকে ১হাজার টাকা, ভাঙন ৬শ থেকে ৭শ টাকা,রুই আড়াই কেজি/তিন কেজি সাইজেরে প্রািত কেজি ৪শ টাকা, কাতলা সাড়ে তিন কেজি ওজনের প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৪শ টাকা, বোয়াল ৯শ টাকা, বেলে ৯শ টাকা, পাবদা ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা, দেশি ট্যাংরা ৬শ থেকে ৮শ টাকা, শোল ৭শ থেকে ৯শ টাকা, চাষের শিং ৫শ টাকা ও নাইলোটিক ২শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বড় বাজারে খামারের মুরগির দাম বাড়ার পরে আর কমেনি।

রোববার বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম মিলন জানান, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ৩শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বড় বাজার জর্দাপট্টির ডিম বিক্রেতা আবু কালাম জানান, খামারের ডিম প্রতি হালি ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।