বাগআঁচড়ায় কৃত্রিম আলোয় ড্রাগনের বাম্পার ফলন

0
কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষ।

আজিজুল ইসলাম, বাগআঁচড়া (যশোর)॥ রাতের আঁধারেও যেন দিনের আলো। এরকম এক পরিবেশ বিরাজ করছে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের মাঠে। আধুনিক ইনডোর লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রাগন চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান মনির।

শীতের সময়ে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে ড্রাগনের ফলন বাড়িয়েছেন প্রায় তিন গুণ। তার এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ শার্শার কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

সাধারণত শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলোর অভাবে ড্রাগন গাছে ফুল ও ফল আসা কমে যায়। এই প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে তুলতে মনিরুজ্জামান তার ২০ বিঘার ড্রাগন বাগানে স্থাপন করেছেন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী শ’শ এলইডি বাল্ব।

প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা ও শেষ রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় এই কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে। শীতের আমেজেও গাছগুলো ফুল দিতে শুরু করে।

সন্ধ্যা নামলেই আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে মনিরের ড্রাগন বাগান। সারিবদ্ধ ড্রাগন গাছ আর মাথার ওপরে এলইডির আলোর ঝলকানি মাঠজুড়ে তৈরি করে এক নান্দনিক দৃশ্য। রাতের এই দৃশ্য দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো আধুনিক ইউরোপীয় শহর কিংবা বিদেশের উন্নত কৃষি খামার। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন শ শ দর্শনার্থী।

শুরুতে মাত্র ৭ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন মনিরের খামার ২৪ বিঘায় ঠেকেছে। এর মধ্যে ২০ বিঘা জমিতে তিনি লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। মনিরের মতে, সাধারণত ভরা মৌসুমে ড্রাগনের যে দাম পাওয়া যায়, অমৌসুমে ফলন ধরাতে পারলে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভে বিক্রি করা সম্ভব।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, উপজেলায় বর্তমানে ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।