অবৈধ অস্ত্র, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির উত্থানে যশোরে এখন ‘ভীতিকর পরিবেশ’

0

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা। রোববার কালেক্টরেটের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং শহর ও গ্রামজুড়ে চাঁদাবাজি-মাদকের ছড়াছড়ি জেলার পরিস্থিতিকে ‘খুবই খারাপ পর্যায়ে’ নিয়ে গেছে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, গত সরকারের সময় যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছিল, তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নির্বাচন যত কাছে আসবে, ততই জনমনে আতঙ্ক ও ভয়ের কারণ হয়ে উঠবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান জনমনে আস্থা ফেরানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যশোরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করে সকল দল, মত নির্বিশেষে জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যুব সমাজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় অনেকের মধ্যে ভোটকেন্দ্র নিয়ে নেতিবাচক ও ভীতিকর অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা দূর করে ভোটারদের ‘বুথমুখী’ করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের আটকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ সুপারকে আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামও একই অভিমত প্রকাশ করে জানান, নির্বাচন ঘিরে সকল প্রার্থী, হিন্দু সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু নির্বাচন সামনে রেখে অস্ত্র অভিযান না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘নির্বাচনের আগে অস্ত্র অভিযান হয়, কিন্তু সেটা হয়নি। কাদের কাছে অস্ত্র জমা আছে, তার তালিকা প্রকাশ করা উচিত। যদি উদ্ধার না হয়, তাহলে সেটা অবৈধ হবে কি না?’ তিনি মাদক, চোরাচালান, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসূলও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক নতুন বদলি হয়ে আসা ৪ জন ইউএনও এবং ৯টি থানার নতুন ওসিসহ সকলকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নির্বাচন, মাদক, সীমান্ত চোরাচালান, জালটাকাসহ অপরাধ দমনে টাস্কফোর্সের অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেন।

অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা জানান, নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় ২ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন এবং ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত হয়ে যাবে। প্রচারণার নীতিমালা মাইকিং করে প্রচার করা হবে।

প্রবাসী, সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি এই চার শ্রেণির মানুষ পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।

পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান জানান, যানজট নিয়ে ৬টি সংগঠন নিয়ে সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং ১৫ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ রিকশা ও ইজিবাইকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সভায় জানানো হয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সমন্বয়ে বন্ধন এক্সপ্রেসে চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে।

অক্টোবর মাসে ২২৩টি এবং নভেম্বর মাসে ২২৪টি মাদক সংশি¬ষ্ট মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এছাড়াও, চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান পৌরসভার নামে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সভায় প্রেসক্লাবে সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন যশোরের সভাপতি প্রশান্ত বিশ্বাস, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের খোকন ও এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েলসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।