গণতন্ত্র উত্তরণের পথে কাঁটা বিছানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, গণতন্ত্রের উত্তরণের পথ এখনও কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এই পথে এখনও ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন করে কাঁটা বিছানোর ষড়যন্ত্র করছে। দেশে বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী কোনোভাবেই গণতন্ত্র উত্তরণের পথটাকে মসৃণ করতে দিতে চায় না। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একটাই পথ, গণতন্ত্রকামী সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের শাস্তির দাবিতে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, জনগণের শক্তির চেয়ে কোনো বড় শক্তি নেই। বিএনপির নেতৃত্বে বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যেভাবে জনগণ সম্পৃক্ত হয়েছিল, ঠিক একই ভাবে বিএনপিকে আজকে গণতন্ত্রকামী মানুষকে গণতন্ত্র উত্তরণের পথে সম্পৃক্ত করতে হবে। যেভাবে সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে পদচ্যুত করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল, ঠিক আজ সকলকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে মানুষের ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের লেখার এবং বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন করে শপথ নিতে হবে।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে রুদ্ধ করতে চায়, তারাই গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার শুভক্ষণে এবং গণতন্ত্র উত্তরণের পূর্ব মুহূর্তে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদি এবং চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহ’র ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

আমরা বারংবার অন্তর্র্বতী সরকারকে বলেছি বিগত ১৬ বছর সারা দেশে যারা সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছিল, সেই সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দীর্ঘ সময়ে আমরা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হতে দেখিনি। আজ সেই আওয়ামী লীগ আমলের অবৈধ অস্ত্র নতুন করে গণতন্ত্রকামী মানুষের বুকে চালাচ্ছে। ঠিক যেভাবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সন্তানসমতুল্য শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছিল।

মিছিল পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, দলের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাড. মো. ইসহক, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল।

পরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি চৌরাস্তা মোড়, জেল রোড হয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মাহতাব নাসির পলাশ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্য সচিব আনোয়ারুল হক রানা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম প্রমুখ।