খুলনার দিঘলিয়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত ব্যবহারের অভিযোগ

0

জামাল হোসেন, খুলনা॥ খুলনার দিঘলিয়ায় অসুস্থ গরু-ছাগলের জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজের জন্যে কেনা (ডাবল কেবিন পিকআপ) সরকারি গাড়িটি ব্যবহার হচ্ছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কাজে। একই সাথে কলেজ শিক্ষক স্বামীকেও সরকারি গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়া হয় তার কর্মস্থলে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা সুলতানা সকাল নয়টার পরিবর্তে অফিসে আসেন সাড়ে ১০টা থেকে ১১ টায়। আবার চলে যান সবার আগে।

সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত থাকায় যানবাহন সংকটে থাকছে দফতরটি। ফলে উপজেলায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক পরিচালনা ও খামার পরিদর্শনসহ দৈনন্দিন সরকারি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে গোটা উপজেলায় খামারিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক বা এমভিসি (ভ্রাম্যমাণ প্রাণিচিকিৎসা ক্লিনিক) নামে পরিচিত এসব গাড়ি কেনা হয়েছে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) সরকারি ডাবল কেবিন পিকআপটি ( ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-৭৬৮৩) খামার পরিদর্শন ও মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকের জন্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গাড়িটি রাখার জন্যে লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে অফিস কম্পাউন্ডে তৈরি করা হয়েছে একটি গ্যারেজ। বিধি মোতাবেক অফিসের গাড়ি কর্ম এলাকার বাইরে নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু গত বছরের ১৫ অক্টোবর দিঘলিয়া উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডা. মাহমুদা সুলতানা।

যদিও তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন খুলনা মহানগরীর বয়রা এলাকায়। তার বাসা থেকে নদী পার হয়ে দিঘলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস প্রায় ১০ কিলোমিটার। প্রতিদিন বয়রার বাসা থেকে অফিস করেন দিঘলিয়ায়। সকালে গাড়ির ড্রাইভার উপজেলা থেকে বয়রায় গিয়ে প্রাণিসম্পদ দফতরের সরকারি ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়িতে করে ডা. মাহমুদা সুলতানাকে তার বাসা থেকে দিঘলিয়া অফিসে নিয়ে আসেন।

শুধু ডা. মাহমুদা সুলতানাকে না, তার স্বামীকেও দৌলতপুর বিএল কলেজ কর্মস্থলে পৌঁছে দেন প্রাণিসম্পদ অফিসের সরকারি গাড়িতে করে। অফিস শেষে তাকে আবার বয়রার বাসায় পৌঁছে দিয়ে দিঘলিয়া অফিসের গ্যারেজে গাড়ি রাখেন। আবার মাঝেমধ্যে ডা. মাহমুদা সুলতানা বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পর গাড়ি উপজেলায় গ্যারেজে না এনে রাতে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গোয়ালপাড়া গ্রামের গরুর খামারি আলী আকবর বলেন,বর্তমানে যিনি ডাক্তার আছেন তাকে দিয়ে পশুর চিকিৎসা হয় না। এক বছরেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে ডা. মাহমুদা সুলতানা ম্যাডামের সাথে সাক্ষাৎ পাইনি। গত সপ্তাহে প্রদশর্নীর আগের দিন এসে বলেন, তোমার কোন খোঁজ- খবর নেই। এরপর প্রদর্শনীতে যেতে আমাকে অনুরোধ করেন। প্রদর্শনীতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি কিছুই পায়নি।

এডিএন প্রিমিয়াম সুইট গরুর খামারের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের খামারে ছোট -বড় ২৮টি গরু আছে। ৮/৯ মাস এখানে চাকরি করি। কিন্তু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা সুলতানা সরকারি গাড়িতে করে এ খামারে আসেননি।

দিঘলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা সুলতানা এ ব্যাপারে বলেন, সরকারি গাড়ি যে কারণে দেওয়া তার কোন না কোন অফিসিয়াল কাজ আমাকে সলভ করতে হয়।সরকারি গাড়ি কোথায় যাবে ও কোন কর্মকর্তা অফিসে কখন আসবেন- এ ধরনের প্রশ্ন আমার কাছে বিব্রতকর। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে অন্য উপজেলার গাড়ি কোথায় যায় স্যারদের খেয়াল রাখতে বলবো।

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারি গাড়ি কর্মস্থলের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। শুধুমাত্র অফিসের কাজ ছাড়া সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। দৈনন্দিন কাজে কোন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না।