যশোরে পরপোকারী জাকারিয়া মিলনের ইন্তিকাল, শ্রদ্ধা ও শোক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের কৃতী সন্তান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এ এম জাকারিয়া মিলন মৃত্যুবরণ করেছেন। গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে তিনি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন।

তার প্রথম জানাজা রোববার ঢাকার গুলশানে, ২য় জানাজা বাঘারপাড়ার আজমেহেরপুর এতিমখানায় এবং এশার নামাজের পর যশোর ঈদগাহ ময়দানে সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কারবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। যশোরের নিজ বাসভবনে মরদেহ আনার পর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম তার বাসায় গিয়ে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

জাকারিয়া মিলন যশোরে সমাজসেবক, পরোপকারী ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। যশোরের বাসিন্দাদের প্রতি আজীবন আন্তরিকতা দেখিয়েছেন তিনি। ছাত্রজীবনে বাম আদর্শের রাজনীতিক মিলন যশোর সরকারি এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন।

আগামী মঙ্গলবার আসরবাদ শহরের খড়কি বাসভবনে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সকলকে উপস্থিতির জন্য মরহুমের ভাই এ জেড এম সালেক অনুরোধ জানিয়েছেন।

যশোর ঈদগাহে জানাজার আগে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘মরহুম জাকারিয়া মিলন ছিলেন একজন সজ্জন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। যশোরের অনেক মানুষ তাঁর যোগ্যতায় ঢাকায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু জাকারিয়া মিলন ছিলেন ভিন্ন ব্যক্তিত্ব; নীরবে অনেক মানুষকে দান করতেন, এবং তার দ্বারা উপকৃত না হওয়া মানুষের সংখ্যা খুব কম।’

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মরহুমের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যেন তিনি বেহেস্তবাসী হন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক লোকসমাজ এর প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসহক, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, শহিদুল বারী রবু, মুনীর আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, জামায়াত ইসলামীর নেতা মো. আব্দুল কাদের, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ প্রমুখ।

এর আগে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, জাসদ, মাওলানা ভাসানী পরিষদ, রোটারি ক্লাব অব যশোর, প্রেসক্লাব যশোর, সংস্কৃতি সংগঠন বিবর্তন, যশোর জিলা স্কুল এলামনাই পরিষদ সহ বিভিন্ন সংগঠন মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁকে কারবালা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, মরহুম জাকারিয়া মিলন ছিলেন অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি রেল রোডে পিতা-মাতার নামে রোটারি এনায়েত আলি আনোয়ারা খাতুন বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানা স্থাপন করেছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এনায়েত আলী শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশন ও নিজ গ্রামে আজমেহেরপুরে এতিমখানা তৈরি করেছেন। নিরবে বহু মানুষকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাও তাঁর অনন্য গুণাবলীর অংশ ছিল।