আজ বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ আজ, ১ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের সর্বাধিনায়ক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রমনা রেস্টুরেন্টে দলটির বীজ বপণ করেন। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দলটির শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।

আজ বিএনপি যখন ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে, ঠিক তখন দেশের আপামর জনতা এই দলের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অভিপ্রায় নিয়ে একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বিরামহীনভাবে রাজপথ আঁকড়ে থেকে জনগণকে সেই স্বপ্ন দেখিয়েছিল। গেল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করে, যার সূচনা হয়েছিল বিএনপির হাত ধরে। আজ থেকে দেড় যুগ আগে দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সেটি উপলব্ধি করে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানে সকলকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ডাক দেন। কিন্তু এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় প্রহসনের বিচারে কারাবন্দী হতে হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও প্রতিনিয়ত ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। দলটির জনপ্রিয় নেতা চৌধুরী আলম, এম ইলিয়াস আলীর মতো ৬ শতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। দলের ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যা ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন।

বিএনপির দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সফলতা লাভ করলেও আজ পর্যন্ত দলটি এর কৃতিত্ব দাবি করেনি। বরং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমগ্র জনতার সাথে ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনের কৃতিত্ব ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে স্রোতের সঙ্গে গা ভাসিয়ে অনেকে রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলছেন। কিন্তু তারেক রহমান ২০২৩ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ‘১৯ দফা’ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এর আলোকে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১টি রূপরেখা ঘোষণা করেন।

২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় দলকে পুনর্গঠিত করে সর্বস্তরে শক্তিশালী ও আন্দোলনমুখী করার উদ্যোগ নেন। তার প্রচেষ্টায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে পুরোদমে। তার নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সরকার বিরোধী জোরালো আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তারেক রহমানের নিরলস প্রচেষ্টা ও দিকনির্দেশনায় দলের সর্বস্তরে কেবল গতিশীলতাই ফেরেনি, জনগণের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণেও তা এগিয়ে যাচ্ছে।

১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর ৪৬ বছরের সংগ্রাম, জনপ্রিয়তা আর চড়াই-উতরাইয়ের পথপরিক্রমায় বিএনপি আজ দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক দল। প্রতিষ্ঠার পর উন্নয়ন-উৎপাদনের আধুনিক রাজনীতিকে মূল প্রতিপাদ্য করে ১৯ দফা কর্মসূচির আলোকে মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন লাভ করে। এ দলের সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, তাদের আত্মপরিচয় কেবল ‘বাঙালি’ নয়, ‘বাংলাদেশি’।

এ দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে ঘাতকের তপ্ত বুলেটে শহীদ হন। এরপর তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বে নব্বই দশকে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তার দল নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে ‘এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এবং একই সঙ্গে পাঁচ-পাঁচটি আসনে সর্বোচ্চ ভোটে জয় লাভ করেন। সর্বশেষ ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে।

দেশের সকল সংকটে দলটির নেতাকর্মীরা ত্রাণ কর্মকর্তার ভূমিকায় সর্বপ্রথম জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মহেন্দ্রক্ষণে ‘সোনালী ধানের শীষে ফুটবে নতুন আশার আলো’ এমনই প্রত্যয় দলটির নেতাকর্মীদের।

এদিকে, বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হবে।