যশোর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব 

রাসেল ভাইপার আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা 

0

বি এম আসাদ ॥ সারাদেশে যখন রাসেল ভাইপার সাপের আতঙ্ক কমে আসছে, তখন যশোর মেডিকেল কলেজে (যমেক) সাপের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। কলেজের অভ্যন্তরে, অফিস, বাথরুম, এবং মেঝেতে প্রায়শই সাপের দেখা মিলছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় হরিনার বিল থেকে সাপগুলো মেডিকেল কলেজের অত্যাধুনিক ভবনে আশ্রয় নেওয়ায় বিষধর সাপের উপস্থিতি চরম ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যশোর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, কলেজের বৃহৎ ও আধুনিক ভবনের নিচতলায় মেঝেতে, অফিসের ভেতরে, বাথরুম এবং পায়খানার প্যানের মধ্যে প্রায়ই সাপ দেখতে পাওয়া যায়। অফিসের ফাইলপত্র নাড়াচাড়ার সময়ও তারা সতর্ক থাকেন। কয়েকজন শিক্ষক পায়খানার প্যানের ভেতরে সাপ দেখেছেন। পরে কর্মচারীরা সাপগুলো বের করে হরিনার বিলের ভেতরে ছেড়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি মেডিকেল কলেজের প্রবেশ পথের বারান্দায় কয়েক ফুট লম্বা একটি রাসেল ভাইপার সাপ ঘুরতে দেখা যায়। সেটিকেও না মেরে বিলের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলের সামনেও প্রায়শই সাপের দেখা মেলে।

মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তা প্রহরী মিরাজ হোসেন বলেন, মেডিকেল কলেজের চারিদিকে পানি। হরিনার বিলের মধ্যবর্তী স্থানে মাটি ভরাট করে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরেও বড় একটি জলাশয় রয়েছে, যা কচুরিপানায় ভরা। বর্ষাকালে বিলে পানি বেড়ে গেলে সাপগুলো ডাঙায় উঠে আসে এবং ভবনের ড্রেন দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, সাপের ভয়ে রাতে তাদের ঘুম আসে না এবং চলাফেরায় সবসময় ভয় কাজ করে। কয়েকদিন আগে একটি বিষধর সাপ কলেজের বারান্দায় দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয় এবং তারা এসে সাপটি ধরে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায়। মিরাজ হোসেন সাপটির একটি ছবি তুলেছেন, যা দেখে অনেকেই এটিকে রাসেল ভাইপার বলে শনাক্ত করেছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ, প্রফেসর ডা. এএইচএম আহসান হাবিব বলেন, কলেজ ভবনে প্রতিনিয়ত বিষধর সাপের দেখা মিলছে। সম্প্রতি নিচতলার মেঝেতে একটি রাসেল ভাইপার সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছিল, যার ছবি কর্মচারীরা তুলে রেখেছে। কলেজের শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর সুমনও একই কথা বলেছেন।

শিক্ষার্থীরাও এই পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। ইন্টার্ন চিকিৎসক মারিয়া বলেন, দিন-রাত আমাদের হোস্টেলের সামনে বড় বড় সাপ ঘুরে বেড়ায়। হোস্টেল থেকে কলেজে যাওয়ার জন্য মাত্র ৫০ ফুট রাস্তা পার হতে সাপের ভয়ে সতর্ক থাকতে হয়।