যশোরে যুবদল ও ছাত্রদলের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার পুলিশের উপ-পরিদর্শক আজিজুল হক সবুজের স্ত্রী জেসমিন বেগম রোববার দুপুরে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে তার এই অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন যশোর নগর যুবদল নেতৃবৃন্দ।

উল্টো ওই নারীর বিরুদ্ধে ইজিবাইক মেরামত নিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য ডেকে এনে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের উপর হামলা ও লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ এনেছেন নেতৃবৃন্দ। শুধু তাই নয়, তার নৈতিক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা তুলে ধরেন।

প্রেসক্লাব যশোরে রোববার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপ-পরিদর্শক আজিজুল হক সবুজের স্ত্রী জেসমিন বেগম অভিযোগ করেন, তার চারটি ইজিবাইক রয়েছে যা তিনি ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তার ইজিবাইক ব্যবসার দিকে নজর পড়ে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বারান্দীপাড়া বৌ বাজার এলাকার তারিক হাসান চুন্নার। কিছুদিন পর তারিক হাসান চুন্না জেসমিন বেগমের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় তারিক হাসান চুন্না এবং তার সহযোগীরা তাকে হুমকি দিতে থাকেন।

সর্বশেষ চলতি বছরের গত ৪ আগস্ট বিকেলে তারিক হাসান চুন্নাসহ সহযোগী নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, বিশাল, আকাশ, লাল্টু, সোহেল, শফিক, হাসান, সানু, মন্ডল, তুষার, আলআমিনসহ আরও ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেসমিন বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় জেসমিন বেগমের ঘরে ঢুকে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তাকে বেধড়ক মারধর এবং সানু ও লাল্টু জেসমিন বেগমের শ্লীলতাহানি ঘটান। এ সময় তারেক হাসান চুন্না ঘর তল্লাশি করে জেসমিন বেগমের ব্যবসার ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। তার ২০ বছরের ছেলে রাকিব হাসানকে মারধর করে আহত করা হয়। তখন জেসমিন বেগমের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে অনেকে পালিয়ে যান এবং তারিক হাসান চুন্নাসহ কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে কিছু লোক এসে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দিলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জেসমিন বেগমের ছেলে রাকিব, মেয়ে সাদিয়া, রুমা এবং পূর্ব পরিচিত মুরাদ হোসেন।

এ ঘটনার পর বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে নগর যুবদল আয়োজিত পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ ওই নারীর করা অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। প্রকৃত ঘটনা হলো জেসমিন বেগম ইজিবাইক ভাড়ার ব্যবসা করেন এটা সত্য। আকাশ নামে তার একজন চালকের গায়ে জ্বর হলে তিনি জেসমিন বেগমকে জানান, তিনি অসুস্থ। ইজিবাইক চালাতে পারবেন না। তখন ওই নারী তাকে জানান, হয় ইজিবাইক চালাবে নতুবা দৈনিকের ভাড়া তাকে দিতে হবে।

একদিনের চার্জের টাকা আকাশ দিতে চাইলেও জেসমিন বেগম নিতে অস্বীকার করেন। ফলে আকাশ বাধ্য হয়ে একজন চালককে বদলি হিসেবে ইজিবাইক চালানোর জন্য বলেন। বদলি চালক ইজিবাইক চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হলে বাইকের কিছুটা ক্ষতি হয়। কিন্তু ইজিবাইক মেরামতের জন্য ৫শ টাকা খরচ হলেও ২৭শ টাকা খরচ হয়েছে বলে আকাশকে জানান জেসমিন বেগম। কিন্তু ২৭শ টাকা খরচ হয়নি বলে আকাশ জানালে এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

গত ৪ আগস্ট বিকেলে এ নিয়ে জেসমিন বেগমের বাড়িতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে ওই নারীই বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য যুবদল নেতা তারিক হাসান চুন্নাসহ অন্যদের তার বাড়িতে আসাতে অনুরোধ করেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী হিসেবে সেখানে যান তারিক হাসান চুন্নাসহ অন্যরা। তখন তারিক হাসান চুন্নাসহ অন্যরা ঘটনার মীমাংসা করে দিলেও তা মনঃপুত হয়নি জেসমিন বেগমের।

এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন জেসমিন বেগম। এ নিয়ে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে জেসমিন বেগম এবং তার কথিত প্রেমিক মাদক সম্রাট মুরাদ হোসেন লোহার রড দিয়ে তারিক হাসান চুন্না এবং আকাশের নিরীহ পিতা লাল্টুকে মারধর করেন। এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তারিক হাসান চুন্না এবং আকাশের পিতা লাল্টু তাদের হাতে আঘাতের চিহ্ন সংবাদিকদের দেখান।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, মাদক সম্রাট মুরাদ হোসেনের সাথে জেসমিন বেগমের অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে এলাকায় গুঞ্জন আছে। এ বিষয়টি নিয়েও এলাকাবাসীর সাথে জেসমিন বেগমের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ওই নারী হিংস্র প্রকৃতির। তারা অভিযোগ করেন, যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে জেসমিন বেগম প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নগর বিএনপির সভাপতি চৌধুরী রফিকুল ইসলাম মুল্লক চাঁন, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, নগর যুবদলের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুল বারী কাক্কু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন সরদার উজ্জল, ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন, যুবদল নেতা আরাফাত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জেসমিন বেগমের স্বামী পুলিশের উপ-পরিদর্শক আজিজুল হক এক সময় যশোর সিআইডিতে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে মরিয়ম বেগম পারুল নামে আরেক স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হলে উপ-পরিদর্শক আজিজুল হকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি ওই মামলায় জেলও খেটেছেন।