কেশবপুরে পানিবদ্ধতার কারণে সড়কে বসবাস

0

জয়দেব চক্রবর্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ টানা বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি উপচে পড়ায় কেশবপুর উপজেলায় ভয়াবহ পানিবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল ও আলতাপোল এলাকার অগণিত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে টোংঘর বেঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পানিবদ্ধতার কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত মাছের ঘের ও পলিতে নদ-নদী ভরাট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কেশবপুরের প্রধান নদ হরিহরে বর্তমানে বিপদসীমার দুই ফুট ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন শিকদার জানান, বর্তমানে নদে পানির স্তর ১০.৭৬ ফুট, যা স্বাভাবিকভাবে ৮.৬৯ ফুট থাকার কথা। অতিরিক্ত পানির চাপে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

মধ্যকুল এলাকার হামিদা খাতুন জানান, এক মাস ধরে তাদের এলাকা পানিবন্দী। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ায় পরিবার নিয়ে সড়কের পাশে টোংঘর বানিয়ে থাকতে হচ্ছে। ভ্যানচালক জিন্নাত আলীও একই ধরনের দুর্দশার কথা জানিয়েছেন।

সাবেক পৌর কাউন্সিলর আয়ুব খান বলেন, মানুষ সাহায্য চায় না। তারা পানিবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চান।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার এই পরিস্থিতির জন্যে অপরিকল্পিত মাছের ঘের ও নদ-নদী ভরাট হওয়াকে দায়ী করেন। তিনি দ্রুত টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু ও নদ-নদী খননের দাবি জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানায়, দুর্গতদের জন্যে এখনো কোনো ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, হরিহর, আপারভদ্রা ও হরিনদীসহ মোট ১০টি সংযোগ খাল খননের জন্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে খনন কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে হরিহর নদের উৎপত্তিস্থল থেকে ৩.৭ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে ও আরও ৪ কিলোমিটার খননের কাজ শুরু হবে।